প্রধান উপদেষ্টার সাথে জামায়াতে ইসলামীর বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। এই বৈঠকে সংস্কার বিচার এবং নির্বাচন নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার সাথে বৈঠকে আলোচনা করা হয়, বর্তমান পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের বিষয়ে যেমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধেও সেরকম নেয়া যেতে পারে বলেও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে জানানো হয়েছে।
আজ ৩১ আগস্ট রোজ রোববার রাষ্ট্রীয় অতথ্য ভপবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সাথে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এমনটা জানান ।
তিনি সেখানে বলেন, “সুন্দর পরিবেশে দীর্ঘ এক ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। আমাদের বর্তমা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কী কী করনীয় এই সকল বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ৩টি বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। প্রথম হলো কিছু বিষয় সংস্কার করা হবে। বিচার দৃশ্যমান করা হবে। বিশ্বমানের আনন্দঘন নির্বাচন হবে।”
জামায়াতে আমীর বলেন, “এক বছরের অধিক সময় ধরে ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা হয়েছে। সেখানে কিছু ভালো বিষয় আছে। বেশ কিছু মেজর ইস্যুতে একমত হয়েছি আবার কিছু সিদ্ধান্তে নোট অব ডিসেন্ট আছে। সবসময় দুই তৃতীয়াংশ দল একমত হয়েছে। নোট অব ডিসেন্ট দিতে পারে। তবে সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয় না। যেগুলোতে নোট অব ডিসেন্টেও একমত হয়েছি সেগুলো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। কিছু দল ঐকমত্য বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা বলছেন সংস্কার আগামী নির্বাচিত সরকার করবে। তারাই যদি করে তাহলে এক বছর সময় নষ্ট করলাম কেন? জুলাইয়ের পর অনেক পরিবর্তন চেয়েছিলাম সেটা যেন আইনি প্রক্রিয়ায় হয়। এটা না হলে জুলাইয়ের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা হবে। চার্টারের ৩টি বিষয় আছে। আমরা চার্টারের বাস্তবায়ন চাই। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন নির্বাচনের আগেই কিছুটা বিচার হয়ে যাবে আমরা একমত হয়েছি।”
তিনি সেখানে আরও বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা অবাধ নির্বাচন হবে বলেছেন। আমরা উনার বক্তব্যের সাথে একমত হয়েছি কিন্তু কার্যকারিতার বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছি। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। লন্ডনে গিয়ে তারিখ ঘোষণার ঘটনায় নিরপেক্ষতার প্রশ্ন রয়েছে। জুলাই ঘোষণা সকল দলের সাথে আলোচনায় হয়নি। এতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি। একইদীন বিকেলে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা মনে হচ্ছে চাপে পড়ে দেয়া হয়েছে। সরকারের উচিত ছিলো জুলাই সনদের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দেয়ার পর নির্বাচন ঘোষণা করা। আমাদের নির্বাচনের তারিখ নিয়ে দ্বিমত নেই। জুলাই চার্টার হতে হবে। এটা অর্জন না করে নির্বাচনের ট্রেন ছেড়ে দেয়া অন্যরকম ব্যাপার। একটা দল যেভাবে চেয়েছে সেভাবে হয়েছে। এতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ক্ষুন্ন হয়েছে।”
পিআর পদ্ধতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই পদ্ধতিতে নির্বাচন নিয়ে ৩১ দলের মধ্যে ২৫ দল একমত হয়েছে। কেউ উচ্চকক্ষে পিআর চায়। আর আমরা সবজায়গাতেই চাই। গত নির্বাচনে ভোট ডাকাতি এসকল অভিজ্ঞতায় আমরা মনে করি নতুন সিস্টেমে নির্বাচন দরকার। নাহয় আবার এমন হবে। আমরা বলেছি এই বিষয়ে নতুন প্রস্তাব আনার বিষয়ে ইসিকে দলগুলোর সাথে আলোচনা করতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদের অবজ্ঞা করে একই সংস্কৃতিতে নির্বাচন হলে আমরা সংকটে পড়বো, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সকলের সন্তুষ্টি সম্মতি ও নির্ধারিত সময়ে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।”
নুরুল হোক নুরের ওপর হামলার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যেভাবে তার ওপর হামলা হলো। দ্বিতীয় স্বাধীনতার যে নায়ক তার ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা দিয়ে কাজ হয় না। এর জন্য নতুন শব্দ বানাতে হবে। এ সময় হামলার বিষয়ে দোষীদের কঠিনভাবে শাস্তি দেয়ার কথাও জানান তারা।”
সবশেষে তিনি জানান, “প্রধান উপদেষ্টাকে আমরা বলেছি, সব ঠিক হয়ে যাবে বলবেন, আবার দেখবেন নির্বাচনে অনিয়ম হবে আবার রাতে দুঃখ প্রকাশ করবেন এসব হবে না। এই সরকার দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। যে সরকার এসব নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না সেই সরকার কীভাবে নির্বাচন করবে আমরা তা নয়ে শঙ্কিত। পরিস্থিতির উন্নতি হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। এর ব্যত্যয় ঘটলে দেশ নৈরাজ্যের দিকে চলে যাবে। কোনও নীল নকশা বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে না। এই সরকারকে উদ্যোগ নিয়ে পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।”