ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘আজকে বাংলাদেশে যে আরেকটা গণতান্ত্রিক পরিবর্তন হতে যাচ্ছে তার পেছনে জীবন দিয়ে ভূমিকা রেখেছেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি আমাকে রাজনীতিতে এনেছেন। তিনি জীবিত থাকাকালে আমার বিরুদ্ধে কোনো বহিষ্কারের আদেশ আসেনি। এই আদেশ এসেছে তার মৃত্যুর পর।
আজকে উনি যদি জীবিত থাকতেন তবে অনেক কিছুই হয়তো অন্যরকম হতো।’
সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলের টক শো প্রোগ্রামে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছর ধরে টেলিভিশন টক শো, সংসদ ও নির্বাচনী এলাকায় ধারাবাহিকভাবে দল, দেশ ও মানুষের পক্ষে সর্বদা কথা বলে এসেছেন। তার ভাষায়, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল; সেখানে বিভিন্ন ধরনের হিসাব-নিকাশ থাকা স্বাভাবিক।
দেশে দীর্ঘদিন পর একটি নির্বাচন হতে যাচ্ছে এবং সে কারণে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট ও আসন সমঝোতায় গেছে বিএনপি। খুব বেশি অপশন হয়তো বিএনপির হাতেও ছিল না।’
তিনি আরো জানান, ‘আমি দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আসনে কাজ করে আসছি ২০১৭ সাল থেকেই। বিশেষ করে উকিল আব্দুল সাত্তার নৌকা মার্কায় চলে যাওয়ার পর স্পষ্টভাবে দল থেকে জানানো হয়েছিল, আমাকে ওই আসনটি দেওয়া হবে এবং আমাকে সেখানেই কাজ করতে হবে।
দলীয় হাইকমান্ড থেকে হঠাৎ করেই নির্বাচন সামনে আসার পর জানানো হয়, অন্য একটি দলের সঙ্গে জোট গঠন করা হচ্ছে। তবে এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো কিছু জানানো হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে, কিন্তু মানুষের প্রতি আমার যে অঙ্গীকার, তা আমি কখনো উপেক্ষা করতে পারি না। সে কারণেই আমি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
আমার এলাকার মানুষের স্পষ্ট দাবি ছিল, এবার নির্বাচনে যেন জোটের কোনো প্রার্থী না দেওয়া হয় এবং ধানের শীষের প্রার্থী আসে।
কারণ এ আসনে ২০০১ সালের পর থেকে ধানের শীষের কোনো প্রার্থী ছিল না। উকিল আব্দুল সাত্তার ধানের শীষে ২০১৮ সালে নির্বাচিত হলেও তিনি মাত্র একদিন সংসদে উপস্থিত ছিলেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সময়ে মানুষকে আর অন্ধকারে রাখা সম্ভব নয়। কে মাঠে আছে, কে নেই, কে দুঃসময়ে ফোন ধরেন আর কে নিরাপদ দূরত্বে থাকেন, সবকিছুই এখন মানুষের চোখের সামনে। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনই তার দাফনের আগেই বিএনপির নয়জন নেতাকে বহিষ্কারের ঘটনা মানুষ ভালোভাবে নেয়নি।’
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা জানান, এটি তিনি এককভাবে নেননি। তার এলাকার ১৯টি ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে, তাদের মতামত নিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তিনি বলেন, ‘এলাকার মানুষের সঙ্গে তার যে প্রতিশ্রুতি ও দায়বদ্ধতা রয়েছে, সেটাই আমার কাছে মুখ্য।’ তিনি জানান, নির্বাচন করার আগে তিনি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, দলীয় ও বেসরকারি পেশাদার প্রতিষ্ঠানের করা ৮ থেকে ৯টি জরিপ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছেন। এসব জরিপের ভিত্তিতেই তিনি ‘হাঁস’ মার্কায় নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

