আজ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আইনজীবী নাঈম কিবরিয়া হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ।
আজ ৪ জানুয়ারি রোজ রোববার সন্ধ্যায় র্যাব-১ এর একটি দল গুলশান বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতের নাম জোবায়ের হোসেন পাপ্পু (২৯)। তিনি ফরিদপুর কোতোয়ালি আনন্দনগরের পরমান্দপুরের বদরুল ইসলাম স্বপনের ছেলে।
র্যাব-১ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া অফিসার) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিব হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১৭ ডিসেম্বর আত্মীয় রাকিবুল ইসলামের (শামীম) নারায়ণগঞ্জ রুপগঞ্জের বাসায় বেড়াতে যায় ভুক্তভোগী নাঈম কিবরিয়া। ঘটনার দিন গত ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে রাকিবুল ইসলাম শামীম মোবাইলে খবর পান, রাত ৯টার দিকে তার আত্মীয়ের ব্যবসায়িক পার্টনার মোতালেব মিয়ার প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-৪৭-৫২৬১) নিয়ে ভাটারা এলাকায় বেড়াতে বের হলে অজ্ঞাতনামা মোটরবাইকের সঙ্গে ধাক্কা লাগার বিষয়কে কেন্দ্র করে তর্ক-বিতর্ক হয়।
এ সময় অন্য মোটরসাইকেলে থাকা সেই অজ্ঞাতনামা আসামিরা ভুক্তভোগী নাঈম কিবরিয়াকে (৩৫) গাড়ি থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে এনে এলোপাতাড়িভাবে মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত বসিয়ে দেয়। পরবর্তীতে রাকিবুল ইসলাম ওইদিন রাত পৌনে ১১টায় ভুক্তভোগী নাঈম কিবরিয়াকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ঘটনাস্থলে আই ব্লকের ওয়াল্টন বাড়ির পাশে ১৫নং রোড়ের মাথায় রাস্তা থেকে উদ্ধার করে।
এরপর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে ভাটারা থানা-পুলিশ নাঈম কিবরিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে এবং ভুক্তভোগীর বাবা অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তির নামে ভাটারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল শুরু করে ছায়া তদন্ত । এরই ধারবাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের ভিত্তিতে রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় র্যাব-১ এর একটি দল হত্যা মামলার তদন্তেপ্রাপ্ত আসামি জোবায়ের হোসেন পাপ্পুকে গুলশান বারিধারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাতেই ডিএমপির ভাটারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিব হাসান বলেন, র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জোবায়ের হোসেন পাপ্পু ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। একই ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।

