যৌন হয়রানির মামলায় সিটি ব্যাংকের এমডিসহ তিনজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে শিগগির জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। ইতিমধ্যে গুলশান থানা পুলিশ জোরেশোরে তদন্ত শুরু করেছে।

এ চক্রের দ্বারা আর কেউ হেনস্তা হয়েছেন কিনা সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট অনেকের ব্যাংক হিসাবের লেনদেনও তদন্তের আওতায় আনা হবে।

বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে গোয়েন্দা সংস্থা ছাড়াও থানা পুলিশের বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ ছায়াতদন্তও শুরু হয়েছে। নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রসঙ্গত, যৌন হয়রানির অভিযোগে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন, হেড অব সিএসআরএম আবদুল ওয়াদুদ ও বোর্ড সেক্রেটারি কাফি খানের বিরুদ্ধে রোববার গুলশান থানায় মামলা দায়ের হয়।

বাদী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মনিরা সুলতানা পপি। মঙ্গলবার এ বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে ব্যাংকপাড়াসহ সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। খুবই নিন্দনীয় ঘটনা আখ্যা দিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা। যেন কোনো প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে নারী নির্যাতনের এমন জঘন্য ঘটনা কেউ ধামাচাপা দিতে না পারে, সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গুলশান থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) এসএম কামরুজ্জামান মঙ্গলবার বলেন, নিয়মানুযায়ী ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।

তদন্ত প্রক্রিয়া তার নিজস্ব গতিতে চলবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগির অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের কয়েকটি সূত্র জানায়, এ মামলাটি খুবই স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে ঊর্ধ্বতন মহল থেকে ক্লোজ মনিটরিং করা হচ্ছে। আসামির সার্বিক গতিবিধি বিশেষ নজরদারির মধ্যে আনা হয়েছে।

এছাড়া সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজনের ব্যাংক হিসাবসহ তাদের সাম্প্রতিক সময়ের লেনদেনের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বাদী যাতে মামলা করতে না পারে সেজন্য কারা কিভাবে ভূমিকা রেখেছে সে বিষয়টিও ছায়াতদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। বেশকিছু ফোন মেসেস ছাড়াও কয়েকজনের কল রেকর্ডও (সিডিআর) পর্যালোচনা করা হবে।

এছাড়া মামলার এজাহারে বর্ণনার বাইরেও বাদিনীর কাছে আসামিদের বিষয়ে আরও বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। সে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে বাদীর মতো আর কেউ তাদের রোষানলে পড়েছেন কিনা সেটিও তদন্ত থেকে বাদ যাবে না। অপরদিকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ছাড়াও মামলার বাদী ব্যাংকটিতে বড় ধরনের ঋণ জালিয়াতি হয়েছেন বলে যে তথ্য উপস্থাপন করেছেন সেটি পৃথকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক খতিয়ে দেখছে।

দায়েরকৃত এজাহারের এক স্থানে বলা হয়, ‘ব্যাংকে যোগদান করার পরপরই মাসরুর আরেফিনের নিয়মিত ইভটিজিংয়ের শিকার হন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় এমডি’র এসব আচরণ সহ্য করেই তাকে কাজ করতে হয়। ২০১১ সালে অপর আসামি হেড অব সিএসআরএম আবদুল ওয়াদুদ গাড়িতে লিফট দেয়ার নাম করে তার ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে বসেন। লিফটের ভেতরে, সিঁড়িতে, অফিস চলাকালীন তার হয়রানির শিকার হতে হয়।

এ ঘটনা বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার টিটো এবং তাবাসসুম কায়সার জানেন। বোর্ডের আলোচনায় আসার পর কনসালটেন্ট রাজা দেবনাথ লিখিত অভিযোগ করতে বলেন।

এরপর ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তারা আমাকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। তারা আমার কাছে জানতে চান, আমি কি চাই। এই ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে একই ফ্লোরে কাজের পরিবেশ নেই জানানোর পর সেপ্টেম্বর মাসে আমাকে ট্রান্সফার করা হয়। এরপর ৩১ ডিসেম্বর ডিএমডি অপারেশন মাহিয়া জুনেদ এবং মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান আমাকে চাকরি খুঁজতে বলেন।’

অপর এক স্থানে বলা হয়, ‘সরাসরি গায়ে আপত্তিজনকভাবে হাত দেয়া, কটূক্তি, লালসার শিকার বানানোর অপচেষ্টাসহ অন্যায়ভাবে আমার দীর্ঘ ১৭ বছরের কর্পোরেট লাইফ নষ্ট করতে চেয়েছেন। আমি সসম্মানে আমার চাকরির পদমর্যাদা ফেরত চাই।

সামাজিকভাবে আমাকে হেয় করা, অফিসে ঢুকতে না দেয়া, ইভটিজিংয়ের তীব্র নিন্দা জানাই এবং সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। নারী অধিকার রক্ষায় বর্তমান সরকার যে ভূমিকা পালন করছে তার প্রতি সম্মান জানিয়ে আপনাদের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।’

সিটি ব্যাংক থেকে বেআইনি চাকরিচ্যুতির শিকার সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মনিরা সুলতানা পপি মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘যৌন হয়রানি বলেন আর অন্য নির্যাতনই বলেন- একটা মেয়ে কোন পর্যায়ে গেলে মামলা করতে পারে, সেটি সবাইকে বিবেচনায় নিতে হবে। এছাড়া আমার মামলা তো পুলিশ সহজে নেয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায় থেকে ফোন না করলে মামলাটি নেয়া হতো না।’

তিনি বলেন, ‘আসলে আমি তো সাহস করে ওদের মুখোশ খুলে দিয়েছি। কিন্তু আমার মতো এ রকম আরও অনেক ভুক্তভোগী আছেন যারা চাকরি হারানোর ভয়ে মুখ খুলছেন না। এ অবস্থায় তারা এখন ক্ষমতা আর প্রভাব-প্রতিপত্তি খাটিয়ে উল্টো আমাকে ফাঁসানোর জন্য ভিত্তিহীন নানান অভিযোগ দাঁড় করানোর অপচেষ্টা করবে। কিন্তু আমি পুরো ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। এছাড়া আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

 

Source: jugantor

আজ (২১-৮-১৯)সকাল ১১ টায় সরিষাবাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি আল আমিন হোসেন শিবলুকে সরিষাবাড়ী পৌরসভার সামনে মুকুল, নিরব সহ ছাত্রলীগ নামধারী কিছু সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালিয়ে মটরসাইকেল ভাংচুর ও মাথায় পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয় লোকজন এসে সরিষাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিলে ডাক্তার তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে রেফার্ড করে দেয় ।

সরিষাবাড়ী সংবাদাতা

২০২৩ সালের মধ্যে সারাদেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে’ মিল চালুর লক্ষ্য নিয়ে আজ মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি-২০১৯’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পরে, সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী পরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে যে মিড ডে মিল চালু হয়েছে পাইলট ভিত্তিতে, তাকে কিভাবে সমন্বিতভাবে সারাদেশে ছড়ানো যায় তার জন্য এই নীতিমালাটি করা হয়েছে।’

এই কর্মকর্তা জানান, সারাদেশে মিড ডে মিল চালু করতে হলে এবং সেক্ষেত্রে কেবল বিস্কুট সরবরাহ সরকারকে বছরে ২ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা খরচ হবে (৯ টাকা হারে)। আর ৫দিন রান্না করা খাবার দৈনিক শিক্ষার্থী প্রতি ১৬ থেকে ১৮ টাকা হারে) এবং একদিন বিস্কুট দেয়া হয় তাহলে খরচ ৫ হাজার ৫৬০ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং বিস্কুট এবং ডিম, কলা ও রুটি দেয়া হলে ৭ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা (২৫ টাকা হারে)।
অদূর ভবিষ্যতে সারাদেশের ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য মিড ডে মিল চালুতে জন্য সরকার পিপিপি’র ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও তিনি জানান। একইসঙ্গে বর্তমানে ১০৪টি উপজেলায় ১৫ হাজার ৩৪৯টি স্কুলের ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে এই মিডডে মিল কর্মসূটির আওতায় আনা হয়েছে। এ বছরের জন্য এই বাজেট ৪৭৪ কোটি টাকা এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ রয়েছে। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হবে।

খাবার হিসেবে শিশুদের সপ্তাহে পাঁচ দিন রান্না করা পুষ্টিকর গরম খাবার ও একদিন বিস্কুট দেওয়া হবে। খাবারে বৈচিত্র্য আনার জন্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শাক সবজি ভাত ও আমিষের চাহিদা পূরণের জন্য ডিমের ব্যবস্থা রাখা হবে। কোন দিন কী খাবার দেওয়া হবে সেটি স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটি, অভিভাবক ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ঠিক করা হবে।

তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। তিনি বলেন, অনুমোদন পাওয়া এই নীতিতে শিশুর প্রাত্যহিক পুষ্টি চাহিদার অন্তত ৩০ শতাংশ স্কুল থেকে মেটানোর লক্ষ্য রয়েছে। ২০২৩ সালের মধ্যে এটার বাস্তবায়ন হবে।

ডুবোজাহাজ, যুদ্ধ জাহাজ, অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল-সহ অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রের নিরন্তর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে চিন। এ বার সেনাবাহিনীতে নতুন সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হল এজি ৬০০। দক্ষিণ চিন সাগর নিয়ে বর্তমানে যে চাপানউতোর চলছে, এই ধরনের বিমান বানিয়ে তারই কি প্রস্তুতি নিচ্ছে চিন? কী রয়েছে এই বিমানে দেখে নিন।

ফের এক বার দুনিয়াকে চমকে দেওয়ার মতো বিমান তৈরি করল চিন।
বিশ্বের বড় অ্যাম্ফিবিয়ান বিমানের মালিক এখন তারাই।এজি ৬০০ এই বিমানটি একবারে ৪৫০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে।প্রায় ৫৪ টন ওজন বহনক্ষম এই বিমান।চিনের দাবি, দাবানল রুখতে এবং কোনও বিশেষ মিশনের জন্য উভচর এই বিমানকে ব্যবহার করা হবে।বিমানটি তৈরি করতে সাত বছর সময় লেগেছে।বিমানে ৪টি শক্তিশালী টার্বো ইঞ্জিন রয়েছে। এই বিমানে ২০ সেকেন্ডের মধ্যে ১২ টন জল ভর্তি করা যায়।ঝুয়াই প্রদেশে ২০০৯-এ এই বিমান তৈরির কাজ শুরু হয়।বিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অব চায়না-র প্রধান জানান, বোয়িং ৭৩৭ এর আকারের এই বিমান এখনও পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় অ্যাম্ফিবিয়ান বিমান। আনন্দবাজার

সদ্য সমাপ্ত গল টেস্টে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ও শ্রীলংকার স্পিনার আকিলা ধনঞ্জয়ার বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক মনে হয়েছে ম্যাচ অফিসিয়ালদের।

স্বাগতিক শ্রীলংকা ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার গল টেস্ট শেষে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসির পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।

শ্রীলংকার বোলিং বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ স্পিনার ধনঞ্জয়া। গল টেস্টে পুরো ম্যাচে ৬২ ওভার বল করে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। আর পার্ট-টাইম বোলার হিসেবে তিন ওভার বোলিং করেন উইলিয়ামসন।

আইসিসি জানায়, ‘ম্যাচ অফিসিয়ালদের রিপোর্ট উভয় দলের খেলোয়াড়দের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দু’খেলোয়াড়ের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। উইলিয়ামসন ও ধনঞ্জয়া রিপোর্টের ১৪ দিনের মধ্যে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিবেন। পরীক্ষার ফলাফল আসার আগ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দু’জন বোলিং করতে পারবেন।’

গেল বছরের নভেম্বরে এই ভেন্যুতেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক টেস্টে বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহের তালিকায় পড়েছিলেন ধনঞ্জয়া। পরে বোলিং অ্যাকশন শুধরে ফিরেছেন তিনি। কিন্তু আবারও সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের দাগ গায়ে পড়লো ধনঞ্জয়ার।

আগামী বৃহস্পতিবার কলম্বোতে শুরু হবে দুই টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ।

চীনে ৪০ তলা এই ভবনটি বিক্রি হয়েছে অনলাইনে। ছবি: এএফপি


বাড়ি কিনতে হলে ক্রেতারা সাধারণত নিজে উপস্থিত থেকে সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই কেনেন। তবে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে এবার ৪০ তলা একটি ভবন অনলাইনে বিক্রি হয়েছে। ২০ আগস্ট নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে ভবনটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় সেটি বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকারও বেশি দামে!

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের অলিম্পিক ভেন্যু বার্ডস নেস্টের পাশেই অবস্থিত এই ভবনটি। ৪০ তলা ভবনটির নাম পাঙ্গু প্লাজা। এক পলাতক চীনা ধনকুবেরের তৈরি বাড়িটি চীনা অনলাইন ওয়েবসাইট আলিবাবায় নিলামে তোলা হয়। নিলামে তোলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল অঙ্কের অর্থ দিয়ে বাড়িটি কিনে নিয়েছে চীনের এক প্রতিষ্ঠান।

১ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ এই নিলামে চোখ রেখেছিলেন। কিন্তু নিলামে অংশ নেন মাত্র দুজন। শেষ পর্যন্ত ইউচেং ঝিয়ে নামের একটি কোম্পানি ৭৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে ভবনটি কিনে নেয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় বাড়িটির বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২০২ কোটি টাকারও বেশি।

অনেকটা ড্রাগনের আদলে তৈরি করা ভবনটির আসল মালিক চীনা ধনকুবের গুয়ো ওয়েঙ্গুই। দুর্নীতির দায়ে ২০১৪ সালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। রায় হওয়ার পর থেকেই নিউইয়র্কে আত্মগোপন করে আছেন তিনি। ২০০২ সালে এই ৪০ তলা ভবনটি নির্মাণ করিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পাঁচ বছর পরে অনিয়মের দায়ে ভবনটি বাজেয়াপ্ত করে বেইজিং মিউনিসিপ্যাল কর্তৃপক্ষ। পরে বেইজিংয়ের ডেপুটি মেয়র লিউ ঝিহুয়ার বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে বাড়িটির মালিকানা আবার ফেরত পান ওয়েঙ্গুই। কিন্তু ব্যাপক আকারের দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় বাড়িটি ফের বাজেয়াপ্ত করা হয়।

৪০ তলা এই ভবনটি অনেক চলচ্চিত্রপ্রেমীর কাছে পরিচিতও ঠেকতে পারে। ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া হলিউডের চলচ্চিত্র ‘ট্রান্সফর্মারস: এইজ অব এক্সটিংশন’-এর বেশ কয়েকটি দৃশ্যে দেখানো হয়েছিল এই ভবনটি।

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সরকার আগরতলা থেকে বাংলাদেশের কক্সবাজার পর্যন্ত বাস পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা করছে। এ কথা জানিয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। গত সোমবার আগরতলায় রাজ্য বিজেপির সদর দপ্তরে মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দর থেকে নির্মাণাধীন ফেনী সেতুর ওপর দিয়ে বাস কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচল করবে। এর মাধ্যমে ত্রিপুরার লোকজনের এশিয়ার তথা বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে যেতে খুব কম সময় লাগবে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, তাঁর সরকার ফেনী সেতু পর্যন্ত দেশটির জাতীয় মহাসড়ককে ‘গ্রিন করিডরে’ পরিণত করতে দুই ধারে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করেছে।

কাজের ফাঁকে স্মার্টফোন ব্যবহারে মস্তিষ্ক বিরতি পায় না। ছবি: সংগৃহীত


অনেকেই মাথা খাটিয়ে কাজের ফাঁকে একটু বিরতি নেন। কিন্তু এ বিরতিতে যদি আবার স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, তাহলে সে বিরতি কোনো কাজে আসে না। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন বিষয় উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এ নিয়ে গবেষণা চালান।

গবেষকেরা বলেন, মানসিক চ্যালেঞ্জযুক্ত কাজের ফাঁকে স্মার্টফোন ব্যবহার করলে মস্তিষ্কের বিরতি হয় না। মস্তিষ্ক নতুন করে কর্মক্ষম হয়ে ওঠার সময় পায় না। এতে কাজের ফলাফলে প্রভাব পড়ে।

গবেষণা সংক্রান্ত নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে ‘বিহেভিওরাল অ্যাডিকশনস’ সাময়িকীতে।

রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক টেরি কার্টবার্গ বলেন, কম্পিউটার ও ল্যাপটপের স্ক্রিনের চেয়ে স্মার্টফোনের স্ক্রিন সক্রিয় হয়ে ওঠার বিষয়টি আলাদা। বিরতিতে কারও সঙ্গে কথা বলতে, বার্তা পড়তে বা কোনো বিষয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার চিন্তা থেকে স্মার্টফোন চালু করলে তাতে মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব পড়ে।

গবেষকেরা ৪১৪ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে এ গবেষণা চালান। তাদের ২০ সেট পাজল মেলাতে দেওয়া হয়। এর ফাঁকে বিরতি দিয়ে একদল শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে কাগজের বিজ্ঞাপন, কম্পিউটার স্ক্রিন বা স্মার্টফোন ব্যবহার করে কিছু কেনাকাটা বিষয়ে বলা হয়। বিরতির পর দেখা যায় যারা স্মার্টফোন বিরতি নিয়েছেন তারা অনেক কিছু ভুলে গেছেন এবং পাজল মেলানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ করেছেন। তাদের সমস্যা সমাধান করতে ১৯ শতাংশ ক্ষেত্রে দেরি হয়েছে ।

গবেষকেরা বলেন, যারা কাজের ফাঁকে কোনো বিরতি নেননি তাদের ফলের সঙ্গে স্মার্টফোন বিরতি নেওয়া দলের ফলাফল প্রায় সমান। অর্থাৎ, বিরতি নেওয়া আর না নেওয়া সমান। যারা একেবারেই বিরতি নেননি তাদের তুলনায় শব্দজট মেলানোর ক্ষেত্রে স্মার্টফোন বিরতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের ফলাফল অবশ্য সামান্য ভালো। অর্থাৎ, একেবারেই বিরতি না নেওয়া ঠিক নয়।

হংকংয়ের আন্দোলনের বিরুদ্ধে চীন সরকারের অপপ্রচারের সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে ফেসবুক ও টুইটার। সমন্বিত অপপ্রচার কৌশলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে দুই লাখ টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার কথা বলেছে টুইটার কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ৯৩৬টি অ্যাকাউন্ট সরাসরি চীনের। আইএএনএসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

টুইটারের এক ব্লগ পোস্টে বলা হয়েছে, হংকংয়ে আন্দোলনের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে এবং বিশেষভাবে রাজনৈতিক বক্তব্য ওই অ্যাকাউন্টগুলো থেকে প্রকাশ করা হচ্ছিল।

চীনে টুইটার বন্ধ হলেও অনেকেই ভিপিএন ব্যবহার করে টুইটার ব্যবহার করেন। স্প্যাম, ভুয়া অ্যাকাউন্ট, সহিংস কনটেন্টসহ টুইটারের নানা নীতিমালা ভাঙায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ফেসবুকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, চীনের সাতটি পেজ, তিনটি গ্রুপ ও ৫টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। হংকংয়ের আন্দোলন নিয়ে ভুয়া খবর ছড়ানোর অভিযোগে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গত জুন মাসে প্রস্তাবিত প্রত্যর্পণ বিলের প্রতিবাদে ব্যাপক পরিসরে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। বিলটি স্থগিত করা হলেও আন্দোলন থামেনি। গণতন্ত্রের পক্ষে আরও বেশি দাবিদাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে হংকং যে স্বাধীনতা ভোগ করছে, তা খর্ব হচ্ছে বলে আশঙ্কা রয়েছে বিক্ষোভকারীদের।

পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে। বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাত আগামী পাঁচ বছরে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সে–সংক্রান্ত পূর্বাভাস দিয়েছে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। হুয়াওয়ে সম্প্রতি তাদের গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রি ভিশন (জিআইভি) প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিশিল্পের উন্নয়ন–সম্পর্কিত ধারা এবং বিষয়বস্তুর ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়েছে।

হুয়াওয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবনযাপন ও কাজ করার প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে ১০টি মূলধারা (মেগাট্রেন্ড) শনাক্ত করা হয়েছে। এই ধারাগুলো শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়েছে হুয়াওয়ের নিজস্ব তথ্য ও উপাত্ত এবং বিশ্বের বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির (ইন্টেলিজেন্ট টেকনোলোজি) বাস্তব চিত্র। এ ছাড়া জিআইভি ২০২৫ সাল পর্যন্ত টেকনোলোজি ট্রেন্ডের ভবিষ্যদ্বাণী প্রদান করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫জি কভারেজ, এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রয়োগ, গৃহস্থালি রোবটের ব্যবহার এবং স্মার্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহারের হার।

জিআইভির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১০টি মূল ধারা হিসেবে থাকবে লিভিং উইথ বটস, সুপার সাইট, জিরো সার্চ, টেইলার্ড স্ট্রিটস, ওয়ার্কিং উইথ বটস, অগমেন্টেড ক্রিয়েটিভিটি, ফ্রিকশনলেস কমিউনিকেশন, সিম্বায়োটিক ইকোনমি, ৫জি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং গ্লোবাল ডিজিটাল গভর্নেন্স।

হুয়াওয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পদার্থবিজ্ঞানের অগ্রগতি, এআই এবং নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি রোবোটিকসের ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করছে। ফলে, বাড়িতে এবং ব্যক্তিগত পরিসরে রোবটের ব্যবহার বাড়ছে। ২০২৫ সাল নাগাদ বৈশ্বিকভাবে হোম রোবটের ব্যবহার হবে ১৪ শতাংশ।

৫জি, ভিআর বা এআর, মেশিন লার্নিং এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির একত্রিতকরণ আমাদের নিজস্ব গণ্ডির বাইরে দেখতে সাহায্য করবে। ফলে, মানুষের জন্য তৈরি হবে নতুন সুযোগ, ব্যবসা এবং সংস্কৃতি। এ ছাড়া ভবিষ্যতের অনুসন্ধানগুলো হবে বাটনফ্রি; ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করা যাবে অনায়াসেই এবং এর ফলে এই শিল্পটি জিরো সার্চ মেইনটেনেন্সের মাধ্যমে উপকৃত হবে। এরপর থাকছে টেইলর্ড স্ট্রিটস বা ইন্টেলিজেন্ট পরিবহন ব্যবস্থা। এতে যানবাহন এবং অবকাঠামোর সঙ্গে মানুষকে সংযুক্ত করবে। ফলে, থাকবে না যানজট, সম্ভব হবে জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত প্রতিক্রিয়া করা এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ড, যা জীবনকে সহজতর করে তুলবে।
এখনকার তুলনায় ভবিষ্যতে রোবটের সঙ্গে কাজ করার পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে। জিআইভি পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতি ১০ হাজার কর্মীর জন্য শিল্পক্ষেত্রে ১০৩টি করে রোবট থাকবে। ২০২৫ সালের মধ্যে ৯৭ শতাংশ বড় বড় সংস্থা এআই মোতায়েন করবে। এআই এবং বিগ ডেটা অ্যানালাইটিকস বিভিন্ন কোম্পানি ও তাদের গ্রাহকদের মধ্যে একটি বিরামবিহীন যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি করবে।

পৃথিবীব্যাপী বিভিন্ন কোম্পানি, একীভূত অ্যাকসেস প্ল্যাটফর্মগুলোতে ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং স্মার্ট অ্যাপ্লিকেশন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এর অর্থ হচ্ছে আরও বেশি সহযোগিতা, রিসোর্স-শেয়ারিং, একটি শক্তিশালী গ্লোবাল ইকোসিস্টেম এবং বর্ধিত উৎপাদনশীলতা পাওয়া যাবে। এরপর আসে ৫জি প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ। জিআইভি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যার ৫৮ শতাংশ লোক ৫জি ব্যবহার করবে। বিশ্বব্যাপী বার্ষিক তথ্য আদানের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৮০ জেডবি (১ জেডবি সমান ১ ট্রিলিয়ন জিবি)। এর জন্য প্রয়োজন হবে গ্লোবাল ডিজিটাল গভর্নেন্সের।

হুয়াওয়ে আইসিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সিএমও কেভিন ঝাংয়ের মতে, ‘মানুষের আবিষ্কারের নেশা কখনোই থামবে না। তাই উচিত ভবিষ্যতের দিকে তাকানো এবং উদ্ভাবন থেকে বের হয়ে এসে আবিষ্কারের দিকে বেশি জোর দেওয়া। বর্তমানে প্রতিটি শিল্পক্ষেত্র এআই, ৫জি, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তি গ্রহণ করছে। এর ফলে আমরা জীবন, কাজ এবং সমাজে দ্রুত পরিবর্তন দেখছি। হুয়াওয়ে এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা প্রতিটি ক্ষেত্রের যোগাযোগব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।’