হংকংভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিনিয়োগ পেয়েছে বাংলাদেশি স্টার্টআপ ই-কমার্স কুরিয়ার সেবা ইকুরিয়ার। এ জন্য বাংলাদেশি স্টার্টআপটির মূল্যায়ন করা হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। অবশ্য বিনিয়োগের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

২০১৫ সালে বিনিয়োগের প্রাথমিক ধাপ শুরু করেছিল ইকুরিয়ার। কুরিয়ার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওই বছর থেকেই কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ইকুরিয়ারই-কমার্স ব্যবসায় নানা সেবা দিচ্ছে।

বিপ্লব ঘোষ বলেন, নতুন বিনিয়োগ পাওয়ায় ঢাকার বাইরে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা ছাড়াও উন্নত ওয়্যারহাউস সুবিধা বাড়ানো হবে এবং তা করা হবে অবকাঠামো ও প্রযুক্ত খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে। এ ছাড়া কার্যক্রমের ভৌগোলিক পরিসীমা বাড়ানো, আস্থা অর্জন এবং কাজের দক্ষতায় উন্নয়ন ঘটাতে এ বিনিয়োগ ব্যবহার করা হবে।

বিপ্লব বলেন, অনলাইন মাধ্যমে পরিসেবাগুলোকে একত্রীকরণসহ প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি ঢেলে সাজানো হয়েছে। চালান ব্যবস্থাপনা, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণসহ আন্তঃশহর পণ্য ডেলিভারি সুবিধা, এক্সপ্রেস পণ্য পরিবহন সেবা এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পণ্য রিটার্ন সুবিধা রয়েছে ইকুরিয়ারে। ইকুরিয়ার বর্তমানে বাংলাদেশের ৬০টি জেলা এবং এক হাজারেরও বেশি ইউনিয়ন পর্যায়ে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৩৫৯ জন বেশি কর্মী রয়েছে।

‘স্টপ ডেঙ্গু’ অ্যাপ উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মেয়র আতিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীতডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে ও দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গুর ছোবল থেকে মুক্তি পেতে ‘স্টপ ডেঙ্গু’ নামের মোবাইল অ্যাপ চালু হয়েছে। সরকারের পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং চারটি সংস্থা একত্রে অ্যাপটি তৈরি করেছে। অ্যাপটি তৈরির কাজ তত্ত্বাবধান করেছে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)।

ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ আবদুল ওয়াহেদ বলেন, ‘স্টপ ডেঙ্গু’ অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে যেকেউ দেশের যেকোনো স্থানে মশার প্রজননস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে পারবেন। এর মাধ্যমে পুরো দেশের মশার প্রজননস্থানের ম্যাপিং তৈরি করা হবে। ফলে সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় সরকার খুব সহজেই কোন এলাকায় কতজন লোক নিয়োগ করতে হবে, তা মশার জন্মস্থানের ঘনত্ব দিয়ে নির্ধারণ করতে পারবে। মশা নিয়ন্ত্রণে কী পরিমাণ ওষুধ কিনতে হবে বা ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়টিও জানা যাবে অ্যাপটির মাধ্যমে। একই সঙ্গে পরবর্তী বছরের জন্য আগে থেকে সতর্কতামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করা যাবে।

আবদুল ওয়াহেদ আরও বলেন, দেশে তিন কোটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীকে লক্ষ্য করে অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। তারা যেন ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। এখন ডেঙ্গু নিয়ে অনেকে অনেক রকম তথ্য দিচ্ছে। কিন্তু সঠিক তথ্য যাচাইয়ের কোনো সুযোগ বা সুবিধা নেই। ডেঙ্গু বিষয়ে সঠিক তথ্য দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এই অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন কমিউনিটিকে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে তাৎক্ষণিক ছবি আপলোড করা যাবে। ছবি আপলোড করলে অটো ম্যাপিংয়ে যুক্ত হবে। বিভিন্ন এলাকা থেকে যুক্ত হওয়া ছবি ও তথ্য অনুযায়ী অভিযোগগুলো তদন্ত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অ্যাপটি সরকারি একটি টুল হিসেবে নাগরিকদের ফিডব্যাক বা প্রতিক্রিয়া জানানোর প্ল্যাটফর্ম হবে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর কাকরাইলের জাতীয় স্কাউট ভবনের শামস হলে ‘পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বহুপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ স্কাউটস, ই-ক্যাব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর, আইসিটি বিভাগের অধীনস্থ এটুআই প্রকল্প এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

চুক্তি অনুযায়ী, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে সংক্রমিত রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রযুক্তির সহায়তায় নাগরিক পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে যে যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মেয়র আতিকুল ইসলাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার মোজাম্মেল হক খান।

ই-ক্যাব বাংলাদেশ সভাপতি শমী কায়সার বলেন, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের ১ হাজার সদস্য নিয়ে ডেঙ্গু সচেতনতায় সম্পৃক্ত হয়। কাজ করতে গিয়ে তাঁরা ডেঙ্গু সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় একটি অ্যাপের প্রয়োজনীয়তা বোধ করেন। তথ্য-উপাত্তভিত্তিক সেবা দিতেই ‘স্টপ ডেঙ্গু’ অ্যাপের ম্যাপিং করা হয়। সাধারণ মানুষ যেন অ্যাপটি সহজেই ব্যবহার করতে পারে, সে দিকটায় খেয়াল রাখা হয়েছে।

অ্যাপটি তৈরিতে কারিগরি সহায়তা করেছে ই-পোস্ট ও বিডি-ইয়ুথ। অ্যাপটি এখন অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।

স্টপ ডেঙ্গু অ্যাপের উদ্বোধনের পর বাংলাদেশ স্কাউটের নির্বাহী পরিচালক আরশাদুল মোকাদ্দেস, ই-কমার্স বাংলাদেশ সভাপতি শমী কায়সার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সিইও মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সিইও আবদুল হাই, ডাইরেক্টর হেলথ ডিজি আবুল কালাম আজাদ, হেলথ সার্ভিস ডিভিশনের অতিরিক্ত সচিব জাকিয়া সুলতানা, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহবুব হোসেন, এটুআই প্রকল্প পরিচালক আবদুল মান্নান এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মহসিন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা চুক্তিতে সই করেন।

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের উদ্যোক্তারা এই কোম্পানি হতে কোনো জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন।

মূলত স্টার্টআপে বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা সংস্কৃতি গড়তে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের একোম্পানি গঠনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার ।

কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হবার পরে স্টার্টআপদেরকে মূল্যায়নের প্রেক্ষিতে সীড স্টেজে সর্বোচ্চ ১ কোটি এবং গ্রোথ গাইডেড  স্টার্টআপ রাঊন্ডে  সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারবে।

‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড কোম্পানি’ গঠনের ওই প্রস্তাব সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকটিতে সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, উদ্যোক্তারা আইডিয়া দিয়েই এই কোম্পানি হতে টাকা পাবেন। ব্যাংকে লোক পেতে যে মর্টগেজসহ কতকিছু লাগে এখানে তার কিছুই লাগবে না।

এখানে ঋণের পরিমাণ ও সুদের হার কত হবে তা কোম্পানি কাজ শুরু করলে ঠিক করা হবে বলে জানান তিনি।

৫০০ কোটি টাকা কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন হবে। পরিশোধিত মূলধন হিসেবে ২০০ কোটি টাকা নিয়ে যাত্রা শুরু হবে কোম্পানির।  নিয়ে যাত্রা শুরু করবে। ১০ টাকা হবে একেকটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য।

কোম্পানির চেয়ারম্যান হবে তথ্যপ্রযুক্তি সচিব। পরিচালকের সংখ্যা হবে ৭ জন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদ মর্যাদার কর্মকর্তারা পর্ষদে থাকবেন। এতে ৩৬ জন জনবল থাকার কথা রয়েছে ।

এদিকে চলতি বাজেটে স্টার্টআপ খাতে অর্থমন্ত্রী ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছেন।

২০১৬ সাল থেকে স্টার্টআপ বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় এ নিয়ে কাজ করছে আইসিটি বিভাগ। এরপর থেকে এ সংক্রান্ত একটি কোম্পানির গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়। নানা ধাপ পেরিয়ে অবশেষে এ বিষয়ক প্রস্তাব সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রক্রিয়া শেষ করা হয়।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানিয়েছিলেন, এই কোম্পানির মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে দেশের এক হাজার স্টার্টআপের পাশে দাঁড়াবেন তারা।

কোম্পানির কাজ হবে মূলত বিকাশমান স্টার্টআপের পাশে দাঁড়ানো। এ ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলোতে এই কোম্পানি থেকে বিনিয়োগ করার পাশাপাশি সেগুলোর পরিচালনার অংশীদারও হবে।

‘সরকারের এক হাজার কোম্পানিতে বিনিয়োগের লক্ষ্য থেকে যদি একটি বিশ্বমানের কোম্পানি বেরিয়ে আসে তাহলে তা পুরাে দেশের চেহারা বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে,’ বলেছিলেন পলক।

প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, সরকার চায় না শিক্ষিত তরুণ শুধু চাকরি খুঁজবে, বরং তারা নতুন চাকরির ব্যবস্থা করবে। সে জন্য দেশে স্টার্টআপ সংস্কৃতি গড়ে তোলা দরকার।

ফেসবুকে গ্রুপের জন্য প্রাইভেসি সেটিংস হালনাগাদ করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ফেসবুকের গ্রুপ ফিচারটি কীভাবে কাজ করে, তা সহজবোধ্য করতেই এ হালনাগাদ আনার কথা বলছে তারা। এখন ফেসবুক গ্রুপ হিসেবে ‘পাবলিক’, ‘ক্লোজড’ বা ‘সিক্রেট’ এমন নানা ভাগে ভাগ থাকবে না। এখন থেকে গ্রুপ হবে শুধু ‘পাবলিক’ ও ‘প্রাইভেট’।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলছে, ব্যবহারকারীদের প্রত্যাশার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে ও বিষয়টিকে আরও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এখানে গ্রুপের ব্যবস্থাপকেরা তাঁদের গ্রুপ কীভাবে দেখাতে চান, তার অপশন তাঁদের হাতে থাকবে।

এখন থেকে ফেসবুকের সব গ্রুপ তাদের বিশেষ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির আওতায় থাকবে। প্রতিটি গ্রুপ পর্যবেক্ষণ করবে ফেসবুকের টিম। বাজে কনটেন্ট ও গ্রুপে বাজে প্রকাশকদের শনাক্ত করে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ফেসবুক।

ফেসবুক গ্রুপের পণ্য ব্যবস্থাপক জর্ডান ডেভিস বলেন, চলতি বছরের শুরুতে ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ বলেছিলেন সামাজিক যোগাযোগের সাইট টাউন স্কয়ার বা ঘরের ডিজিটাল সংস্করণের মতো। মানুষের সঙ্গে জনসমক্ষে আলাপচারিতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ আলাপের জায়গার প্রয়োজন পড়ে। এখন মানুষের কথা ভেবে গ্রুপের সহজ প্রাইভেসি মডেল চালু করা হচ্ছে। গ্রুপের প্রাইভেসি সেটিংস নিয়ে মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছিল। ‘পাবলিক’ ও ‘প্রাইভেট’ এ দুটি গ্রুপের সদস্য হয়ে এখানকার পোস্টগুলো দেখতে সুবিধা হবে।

আগে যেসব গ্রুপ ‘ক্লোজড’ ছিল, তা এখন ‘প্রাইভেট’ গ্রুপ হয়ে যাবে এবং সার্চে দেখা যাবে। তবে আগের ‘সিক্রেট’ গ্রুপগুলো এখন ‘প্রাইভেট’ গ্রুপ হলেও তা সার্চে দেখা যাবে না।

গত বছর থেকেই ফেসবুক থেকে তথ্য ফাঁসসহ ভুয়া খবর ছড়ানো নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন জাকারবার্গ। এ বছরের শুরুতেই তিনি ফেসবুকের ব্যবসার বেশ কিছু নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ হচ্ছে ‘প্রাইভেট’ বা একান্ত ব্যক্তিগত যোগাযোগের বিষয়টি। তিনি এ ধরনের যোগাযোগকে আরও নিরাপদ করতে চান।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট সোশ্যাল মিডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের অক্টোবরে চালু করা গ্রুপ চ্যাটের বিশেষ ফাংশন তারা সরিয়ে ফেলছে। পোস্টের মন্তব্যের বাইরে গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে একান্ত আলাপচারিতা সুযোগ দিতে এ সুবিধা চালু করা হয়েছিল। এ অপশন বন্ধ করার পরিষ্কার কোনো ব্যাখ্যা ফেসবুক দেয়নি। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১৬ আগস্ট থেকে ফেসবুক গ্রুপে নতুন চ্যাট অপশন থাকবে না। ২২ আগস্ট থেকে ফেসবুক গ্রুপের বর্তমান চ্যাটগুলো শুধু পড়া যাবে। বর্তমানে সরাসরি ফেসবুক অ্যাপের পণ্য অবকাঠামোতে গ্রুপ চ্যাট সমর্থন করে না। তবে গ্রুপে রিয়েল টাইমে যোগাযোগের জন্য নতুন উপায় খুঁজে দেখা হচ্ছে।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেক ক্রাঞ্চ বলছে, গ্রুপ চ্যাটে স্প্যাম ছড়ানো বেড়ে যাওয়ার কারণে ফেসবুক এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বর্তমানে গ্রুপ চ্যাটে একসঙ্গে ২৫০ জনকে যুক্ত করা যাবে। এসব সদস্য বন্ধু না হলেও চলে। অর্থাৎ যেকেউ চাইলে তার নেটওয়ার্কের বাইরেও ২৫০ জনের কাছে বার্তা পাঠাতে পারে। অপরিচিত কারও কাছ থেকে এমন বার্তা পেয়ে অনেকে বিরক্ত হন। তাই ফেসবুক গ্রুপে নানা পরিবর্তন আনছে।

মেট্রোরেল নির্মাণের কারণে যাতায়াতে ভোগান্তির শেষ নেই। হাঁটার গতিতে চলে বাস। কোথাও কোথাও হাঁটার গতির কাছেও যেন হার মানে। চওড়া সড়কের প্রায় অর্ধেকটাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাস বা রিকশা—সবই চলে একটি লেনে। রাস্তাও এবড়োখেবড়ো, ভাঙাচোরা। সরকারি একটি জরিপ বলছে, মেট্রোরেল নির্মাণের কারণে ১৫ মিনিটে এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে বাসসহ বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহন। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় কাটাতে হয় যাত্রীদের। এই বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

মিরপুর এলাকায় সরেজমিন গিয়েও যাত্রীদের ভোগান্তির এই চিত্র পাওয়া গেছে। উত্তরা থেকে মিরপুর, ফার্মগেট হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের কাজ চলছে পুরোদমে। মেট্রোরেলের নির্মাণের কারণে মূল সড়কের আশপাশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে মিরপুর এলাকায় অনেক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, বেশির ভাগের আয় কমেছে।

চলমান মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সর্বশেষ অগ্রগতির পাশাপাশি একটি জরিপও করা হয়েছে। জরিপে মেট্রোরেলের নির্মাণকাজের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নাগরিকদের কী ধরনের অসুবিধা হচ্ছে, তা তুলে ধরা হয়েছে। মেট্রোরেলের সুবিধা নিয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে।

বৃহৎ প্রকল্প বিশেষজ্ঞ এম ফাওজুল কবির খান প্রথম আলোকে বলেন, নির্মাণকাজ চলার সময় গাড়ি চলতে কষ্ট হওয়া এবং ব্যবসায় মন্দাভাব—এসব উন্নয়নের মাশুল। ওই এলাকার পরিবহনব্যবস্থা কার্যকরভাবে সচল রাখার বিষয়টিতে প্রকল্প শুরু হওয়ার আগেই মনোযোগী হওয়া উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন, সরকারের উচিত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।

আইএমইডির জরিপ
যেসব এলাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ করা হচ্ছে, সেসব এলাকার ২৬০ জন নারী-পুরুষের ওপর ওই মতামত জরিপ পরিচালনা করেছে সরকারি সংস্থা আইএমইডি। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ওই এলাকার যাত্রীদের বাসে প্রতি এক কিলোমিটার যেতে গড়ে ১৫ মিনিট সময় লাগে। সেই হিসাবে, মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে মতিঝিলের দূরত্ব প্রায় ১১ কিলোমিটার। এই পথ পাড়ি দিতে মিরপুরবাসীকে প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টা বাসে কাটাতে হয়।

উত্তরদাতাদের ৮১ শতাংশ মিরপুর, আগারগাঁও, পল্লবীসহ মেট্রোরেলের আশপাশের এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না। কিন্তু ভবিষ্যতে যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হবে, এই আশায় ভোগান্তি সহ্য করে তাঁরা ওই এলাকায় ভাড়া থাকেন। জরিপ অনুযায়ী, ৯৪ শতাংশের মেট্রোরেল সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেই।

মেট্রোরেল পরিচালনা করবে সরকারি প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। ওই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক যোগাযোগ সচিব এম এ এন সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেট্রোরেল নির্মাণাধীন এলাকায় ব্যবসা মন্দা যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা ফুটপাত ভেঙে দুইটি গাড়ি পাশাপাশি চলতে পারে, সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি।’

ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন অনেকে
আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেট্রোরেল নির্মাণ এলাকায় ৬৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের আয় কমেছে। মিরপুর এলাকায় সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, বাস্তবচিত্র আরও কঠিন। ব্যবসায়ীদের হাহাকার চলছে। লোকসানের মুখে বহু ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার চিন্তা করছেন। মেট্রোরেল নির্মাণকাজ চলমান থাকায় ক্রেতা মিলছে না। সড়কের এপারের ক্রেতারা ওপারের দোকানে যেতে পারছেন না। আবার গাড়ি পার্কিং সুযোগ না থাকায় অনেকেই কেনাকাটা করতে ওই এলাকায় যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। বিক্রিবাট্টা অর্ধেকে নেমে গেছে বলে জানান বিক্রেতারা।

উত্তরা থেকে মিরপুর হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ চলছে
নির্মাণকাজের জন্য সড়ক সরু হয়ে গেছে, ব্যবসা বন্ধ করেছেন অনেকে
মেট্রোরেল নির্মাণ এলাকায় ৬৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের আয় কমেছে
যাত্রীদের বাসে প্রতি এক কিলোমিটার যেতে গড়ে ১৫ মিনিট সময় লাগে

মিরপুর গোলচত্বর এলাকায় সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ের পাশে টাচ অ্যান্ড ফ্যাশনের সামনে প্রতিষ্ঠান বিক্রির নোটিশ ঝোলানো আছে। ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মহব্বত হোসেন জানান, বেলা দুইটা পর্যন্ত কোনো বেচাকেনা হয়নি। ক্রেতা টানতে পোশাকের মূল্যে ৩০ শতাংশ ছাড় দিয়েও ক্রেতা মিলছে না। তিনি জানান, আগে দিনে ৮-১০ হাজার টাকার বিক্রি হতো। এখন তা কমে ৩-৪ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর, সেনপাড়া, মনিপুর এলাকার টাইলস, স্যানিটারি পণ্য, আসবাবের ব্যবসায়ীরা। গাড়ি পার্কিংয়ের সুযোগ না থাকায় এখানে ক্রেতা মিলছে না। সড়কের এপারের ক্রেতা ওপারে যেতে পারছেন না। বেশ কিছু টাইলসের দোকান ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।

পরিকল্পনামতো কাজ এগোচ্ছে না
ঢাকার যানজট কমাতে এবং যাত্রীদের দ্রুত চলাচলের জন্য প্রায় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার মেট্রোরেল প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে জাপান দিচ্ছে সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালের মধ্যে উত্তরা থেকে মিরপুর হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণ হবে। এর মধ্যে ২০২০ সালের মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ট্রেন চলাচল চালু করার কথা। কিন্তু আইএমইডি বলছে, এই সময়ের মধ্যে মেট্রোরেল চালু করা চ্যালেঞ্জিং হবে।

২০১২ সালে নেওয়া এই প্রকল্পের প্রথম সাত বছরে, অর্থাৎ গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত ২৯ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। খরচ হয়েছে ৬ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। অথচ এই সময়ে সাড়ে ৪৬ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর একযোগে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চালু হবে। প্রথমে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চালু করার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সরকার। তবে এই ডিসেম্বর মাসের পরে আগারগাঁও পর্যন্ত ভৌত কাজ শেষ। আর ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মতিঝিল পর্যন্ত কাজ শেষ হবে। এরপর কমপক্ষে এক হাজারবার পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চলাচলের পর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে দেশের প্রথম মেট্রোরেল।

রাইড শেয়ারিংয়ের ওপর ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট নিয়ে ব্যাখ্যা দিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রাইড শেয়ারিং অ্যাপস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্ত টাকার ওপরেই শুধু ভ্যাট বসবে। চালকের প্রাপ্ত ভাড়ার টাকার ওপর কোনো ভ্যাট বসবে না। ভ্যাট যাত্রীদের দেওয়া ভাড়ার ওপর বসবে না।

এনবিআরের রাইড শেয়ারিংয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, রাইড শেয়ারিং অর্থ হলো কোনো ইন্টারনেট বা ওয়েব বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা মোবাইল বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে ব্যক্তিমালিকানাধীন মোটরযানের মাধ্যমে প্রদত্ত যাত্রী পরিবহন সেবা। এই ধরনের সেবা দিতে ব্যক্তিগত পরিবহনের মালিক নিজে বা চালক দিয়ে অ্যাপস ব্যবহার করে যাত্রী পরিবহন করেন।

যাত্রীরা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে ভাড়া প্রদান করেন। সেই ভাড়ার একটি অংশ উবার, পাঠাওয়ের মতো অ্যাপসভিত্তিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান পায়। সেই সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্ত টাকার ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট বসবে। নতুন ভ্যাট আইন অনুযায়ী, যানবাহন চালকদের সেবার বিনিময়ে প্রাপ্ত আয় পুরোপুরি ভ্যাটমুক্ত।

আগামী বৃহস্পতিবার থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। অবকাঠামোগত সুবিধা, নিরাপত্তাসহ আনুষঙ্গিক সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিশনারের কার্যালয় ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা।

রোহিঙ্গারা রাখাইনে তাদের আদি নিবাসে ফিরে যেতে চায় কিনা তা নিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) মঙ্গলবার থেকে নির্বাচিত লোকজনের সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু করবে।

শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল কালাম সোমবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে ইউএনএইচসিআরের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সাক্ষাৎকার নেবেন। গুমদুমের স্থল সীমান্ত দিয়ে প্রত্যাবাসনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন শিবিরগুলো তৈরি আছে। এ ছাড়া স্থলপথে রোহিঙ্গাদের পাঠানোর জন্য যানবাহনও সংগ্রহ করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের তালিকায় কতজনকে রাখা হয়েছে জানতে চাইলে আবদুল কালাম বলেন, এখন পর্যন্ত মিয়ানমার ১ হাজার ৩৮ পরিবারের ৩ হাজার ৯৯৯ জনকে রাখাইনের অধিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ৩৩৭ পরিবারকে পূর্ণাঙ্গভাবে, যাদের সদস্য সংখ্যা ১ হাজার ৩৯০ জন। আর ৭০১টি পরিবারের আংশিক সদস্যের সংখ্যা ২ হাজার ৯ জন রোহিঙ্গা। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া রোহিঙ্গাদের পাঠানো যে কিছুটা সমস্যার সেটি তিনি স্বীকার করেছেন।

প্রসঙ্গত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ ও ইউএনএইচসিআর একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। ওই সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী রাখাইনে স্বেচ্ছায় যাওয়ার বিষয়ে রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা ইউএনএইচসিআরের। গত বছরের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম তারিখ ঠিক হয়েছিল। সে বার বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের বাদ দিয়েই রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিল ইউএনএইচসিআর। তখন রোহিঙ্গাদের কেউই রাখাইনে ফিরে যেতে চায়নি।

এদিকে কক্সবাজারে প্রত্যাবাসনের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ দফায় রাখাইনে পাঠানোর জন্য নির্বাচিতদের অধিকাংশ (৯২৭টি পরিবার) রয়েছেন উখিয়ায় ২৬ নম্বর শিবিরে। কয়েকটি পরিবার রয়েছেন অন্য তিনটি শিবিরে। এ জন্য ২৬ নম্বর শিবিরের আশপাশে রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।

মারাত্মক শব্দ দূষণের শিকার বিশ্বের দশটি বড় শহরের একটি কায়রো – সংগৃহীত

যখনই শহুরে পরিবেশ এবং দূষণ নিয়ে আপনি ভাবেন, তখন কি সাথে সাথে শব্দ দূষণের নেতিবাচক বিষয়গুলোর কথা ভাবেন? অধিকাংশ মানুষ (তাদের মধ্যে নগর পরিকল্পনাবিদরাও আছেন)- তাদের শহরকেন্দ্রিক চিন্তাভাবনার মধ্যে দূষণ বলতে স্থান দেন গাড়ির ধোঁয়া, ধোঁয়াশা, জমে থাকা নোংরা কাদা-পানি, যেখানে সেখানে ফেলা আবর্জনা আর প্লাস্টিক ইত্যাদি জঞ্জালের স্তূপকে।

কিন্তু বিজ্ঞান এটা প্রমাণ করেছে, শব্দ দূষণ কম গুরুত্বপূর্ণ কোন হুমকি নয়। এতদিন এই দূষণকে সেভাবে গুরুত্ব দেয়া না হলেও এখন এটাকে বড় হুমকি হিসাবে বিবেচনার সময় এসেছে। কারণ শব্দ দূষণ মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত, হৃদরোগ, কাজের মানের অবনতি, স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য লেখাপড়ার সমস্যা, এমনকি শ্রবণশক্তি পর্যন্ত হ্রাস করতে পারে।

“মানুষকে একদিন শব্দ-দূষণের মোকাবেলা করতে হবে কলেরা এবং কীটপতঙ্গ ঠেকানোর মত সমান গুরুত্বের সঙ্গে,” বলেছেন নোবেলজয়ী চিকিৎসক রবার্ট কোচ, যক্ষ্মা বিষয়ে যুগান্তকারী অবদানের জন্য ১৯১০ সালে যিনি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

কিন্তু শব্দের বিরুদ্ধে লড়াই কিভাবে শুরু করবেন?

‘দারুণ অনুভূতিময়’ শহর তৈরি

কেমন সে শহর? এক্ষেত্রে স্থাপত্যবিদ্যা কি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে? বিশেষজ্ঞরা মনে করেন তারা কাজটা পারেন। ইংল্যান্ডের সলফোর্ড ইউনিভার্সিটির শব্দ বিষয়ক প্রকৌশলী ট্রেভর কক্স যেমনটা বলেছেন যে, “অর‍্যাল (Aural) আর্কিটেকচার হচ্ছে এমন একটি বিষয় যেখানে গুরুত্বপূর্ণ হল ভবনগুলো কি বলতে চাইছে, ভবনগুলোর ভেতর কিধরনের শব্দ তৈরি হচ্ছে, আমরা কীভাবে তাতে সাড়া দিচ্ছি সেগুলো।

এই ভবনগুলো মানুষ এবং মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর কী প্রভাব ফেলছে সেটা বোঝা। সর্বাধুনিক শব্দ প্রযুক্তি এবং নতুন ধরনের নির্মাণ উপকরণ কেবলমাত্র উন্নত নতুন শহর তৈরি করতে শুধু সহায়তা করবে তা নয়, বরং পুরনো ধাঁচের শহরগুলোরও মান উন্নয়ন করবে।

এসব প্রযুক্তি দিয়ে বর্তমান ভবনগুলো তারা এমনভাবে বদলে দিতে পারেন যে ভবনের বাইরেটা অবাঞ্ছিত বাইরের শব্দগুলো ঠেকিয়ে রাখবে। সুনির্দিষ্ট শব্দ তরঙ্গ আর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তৈরি করে অবাঞ্ছিত শব্দকে ভবনের ভেতরে ঢুকতে দেয়া হবে না।

সাউন্ড আর্টিস্ট মাইকেল ফাওলার উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন, “ভবিষ্যতে বিমানবন্দরের খুব কাছে বাস করা হয়তো সম্ভব হবে। আপনি যে মুহূর্তে ভবনের কয়েক মিটারের মধ্যে পৌঁছবেন, সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরের সব শব্দ উধাও হয়ে যাবে এই প্রযুক্তির কল্যাণে।”

‘খালি জায়গাকে নয়নাভিরাম’ করে তোলা

মিস্টার ফাওলার জার্মানিতে টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব বার্লিনের অডিও কমিউনিকেশন গ্রুপের একজন সদস্য এবং অর‍্যাল আর্কিটেকচার নিয়ে তার অনন্য অবদান রয়েছে। ফাঁকা জায়গাকে শব্দ দিয়ে সুন্দর করে সাজানোর ব্যাপারে তিনি খুব আগ্রহী। যেমন, জাপানি ধাঁচে বাগান তৈরি- যেখানে থাকবে শুকনো পাথুরে ঝর্না যা সত্যিকারের ঝর্ণার মত প্রবাহিত হবে। বুদ্ধি খরচ করে চোখের আড়ালে পানির উৎস বসালে তা বিশেষ একটা দৃশ্যপট তৈরি করবে।

তিনি বলেন, স্থপতিরা ভবন নির্মাণের সময় বা জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গায় এধরনের ফিচার বসানোর নক্সা দিতে পারেন যা সবার জন্য একটা দূষণ মুক্ত সুন্দর শব্দময় পরিবেশ তৈরি করবে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শব্দ-দূষণের শিকার কোন কোন শহর?

বিশ্ব-স্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণা বলছে বিশ্বজুড়ে শব্দ-দূষণ একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা, এবং শত কোটি মানুষ বসবাস করে এমন সব এলাকায় যেখানে শব্দের তীব্রতা অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। এই গবেষণা অনুসারে চীনের গুয়াংঝু শহর বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শব্দ দূষণের শহর। অন্যদিকে সবচেয়ে কম শব্দ দূষণ সুইজারল্যান্ডের জুরিখে।

সবচেয়ে খারাপ মাত্রার শব্দ দূষণের তালিকায় বিশ্বের যে দশটি শহর রয়েছে তার মধ্যে এশিয়ায় গুয়াংঝুর পরেই আছে- দিল্লি, মুম্বাই এবং বেইজিং। আফ্রিকায় কায়রো, ইউরোপের শহরগুলোর মধ্যে ইস্তানবুল, বার্সেলোনা এবং প্যারিস এবং লাতিন আমেরিকাতে মেক্সিকো সিটি এবং বুয়েনস আয়ার্স।

রাস্তার সুরেলা কোলাহল

যেখানে শহুরে কোলাহল থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়, সেখানে যানবাহনের শব্দকে কি সুরেলা করে তোলা সম্ভব? অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের আরএমআইটি ইউনিভার্সিটির গবেষক জর্ডান ল্যাসি এমনটাই করেছেন ২০১৬ সালে। তিনি শব্দ বদলের একটি অভিনব সরঞ্জাম তৈরি করেছেন।

তিনি একটি পার্কের পাশের রাস্তার কোলাহল, যানবাহনের তীব্র আওয়াজ মাইক্রোফোনে রেকর্ড করে তার সঙ্গে মিশিয়েছেন সঙ্গীতের মূর্চ্ছনা। তারপর সেই সুরেলা শব্দ তিনি লাউডস্পিকারের মাধ্যমে পার্ক এলাকায় বাজাচ্ছেন। ফলে আগে যারা শব্দের অত্যাচারে ঘরের দরোজা বন্ধ করে রাখতেন বারান্দায় বেরতেন না,এখন সেইসব বাসিন্দারা তাদের বারান্দায় নিশ্চিন্তে বসছেন।

ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়ার গবেষকরাও বিশেষ আকারের জানালা তৈরি করেছেন যা চারপাশ থেকে আসা শব্দকে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে ধরবে এবং বাড়ির মালিক তার ঘরের ভেতর পছন্দের সঙ্গীত তার সঙ্গে মিশিয়ে একটা নতুন শব্দরাজ্য তৈরি করতে পারবেন।

শব্দ কোলাহল থেকে বিরতি?

তাহলে, কোলাহলপূর্ণ শব্দকে বিরক্তি উদ্রেককারী পর্যায় থেকে আনন্দদায়ক করে তোলা যেতে পারে, কিন্তু শব্দের অত্যাচার থেকে একেবারে পালানো কি সম্ভব? স্থপতিরা আগামী দিনের শহরগুলো পরিকল্পনা করছেন এমনভাবে যাতে একটা শান্ত এবং প্রাকৃতিক শব্দ সম্বলিত শহর গড়ে তোলা যায়।

জর্ডান লেসি বলেন, “শহরের কোলাহল সম্পর্কে অভিযোগ করা সহজ, বলা সহজ যে আরও নিবিড়ভাবে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা উচিত। কিন্তু যে সমস্ত লোকের এর কাছাকাছি আসারও সুযোগ নেই তারা কী করবে?”

তিনি মনে করেন সেসব জায়গায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সৃষ্টি করে তার সাথে প্রযুক্তির মিশ্রণ ঘটিয়ে শহরে একটা শান্ত পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। যার উদ্দেশ্য হবে প্রকৃতির কাছে তাদের নিয়ে যাওয়া নয়, বরং শহরের আবহে তাদের শব্দ থেকে পালানোর সুযোগ করে দেয়া।

ফ্লোর-প্ল্যান এবং ভবনের কথা ‘শোনা’

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সিস্টেম এখানে বড় ভূমিকা রাখছে। স্থপতিরা বুঝতে শুরু করেছেন তাদের নকশা করা ফাঁকা জায়গা কীধরনের শব্দ তৈরি করতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে বলে ‘অর‍্যালাইজেশন’। এটা হল ফাঁকা জায়গার মধ্যে এমনভাবে শব্দ বা ধ্বনি তৈরি করা যা আপনাকে কোন বিশেষ পরিবেশের কথা মনে করিয়ে দেবে।

বাইরের শব্দকে প্রযুক্তির মাধ্যমে এমনভাবে কৃত্রিমভাবে তৈরি শব্দের সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হবে যা মানুষের জন্য একটা সুখের বা আনন্দের অনুভূতি তৈরি করবে। ভবনের নক্সা তৈরির কাজে বড় ভূমিকা রাখবে শব্দ সৃষ্টি বা শব্দ বিন্যাসের বিষয়। ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম অরুপ এর কনসাল্ট্যান্ট নাওমি টেনেসি বলেন, স্থপতিরা ভবিষ্যতে তাদের নক্সার মধ্যে ধ্বনি শোনার ওপর জোর দেবেন এবং সে অনুযায়ী কোথায় উন্নতি দরকার সেটা বুঝতে পারবেন।

মিস্টার ফাওলার বলছেন, ”আমরা যদি ধ্বনি সপর্কে আরও সচেতন হয়ে উঠি, বিষয়টা নিয়ে আরও কাজ করি, তাহলে ভবিষ্যতে আমরা আমাদের শহরকে, আমাদের বাসাবাড়িকে, আমাদের অফিসকে চোখ ও কানের জন্য নান্দনিক করে তুলতে পারব আর সেই সাথে শব্দ দূষণের সমস্যাগুলো মোকাবেলা করতে পারব। সূত্র : বিবিসি।

স্মার্টফোন – ছবি : সংগ্রহ

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন বিক্রি ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমতে পারে, যা বাজারটির মন্দাভাব কটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ ছাড়া বার্ষিক স্মার্টফোন বিক্রি কমার হার এটাই সর্বোচ্চ হবে। বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজার খারাপ সময় পার করছে।
বাজারটিতে টানা কয়েক বছরই বিক্রি কমছে।

চীনের জাঁকজমকপূর্ণ বাজারটিতে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামীদামি হাই-অ্যান্ড স্মার্টফোন বাজারে আসছে ঠিকই, কিন্তু ডিভাইসগুলো নির্মাতাদের জন্য ব্যবসায় সুফল বয়ে আনতে পারছে না। কারণ ক্রেতা পর্যায়ে প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের প্রতি আগ্রহ কমে গেছে। একে তো দাম বেশি, তার পরও নতুনত্ব কিংবা উদ্ভাবনী ফিচার না থাকায় তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজার। ডিভাইসগুলোর লাইফসাইকেল বেড়ে যাওয়ায় গ্রাহকপর্যায়ে ঘন ঘন পরিবর্তনের প্রবণতাও কমে গেছে। গার্টনারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, হাই-অ্যান্ড স্মার্টফোনের আয়ুষ্কাল আড়াই বছর থেকে বেড়ে ২ বছর ৯ মাসে পৌঁছেছে। আগামী চার বছর এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। মোবাইল ডিভাইসের নকশা এবং দরকারি ফিচার কিংবা গ্রাহক চাহিদার আলোকে অভিজ্ঞতা যুক্ত করা না হলে মানুষ ফোন হালনাগাদ করবে না। যে কারণে আগামীতে মোবাইল ফোনের বাজার আরো খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে। এখন মোবাইল ডিভাইসের আয়ুষ্কালও বেড়েছে। গত বছর মানুষ যেসব মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার শুরু করেছে সেগুলো অনায়াসে চলতি বছরজুড়ে ব্যবহার হবে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে কয়েকটি মোবাইল অপারেটর যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের বেশকিছু অঞ্চলে পঞ্চম প্রজন্মেও মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি ফাইভজি চালু করেছে। দ্রুতগতির এ সেবা বিস্তৃত হতে আরো সময় লাগবে।

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যকার বাণিজ্য বিরোধের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে। বাণিজ্য বিরোধের জেরে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের দুই মহারথী স্যামসাং ও অ্যাপল আর্থিক লোকসানের মুখে পড়লে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে হুয়াওয়ের রাজস্ব বেড়েছে।

‘সিমোর্গ’ নামের নতুন একটি সুপার কম্পিউটার তৈরি করছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।

দেশটির প্রযুক্তিমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ অযারি জাহরোমি এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ইরানের নতুন সুপার কম্পিউটার আগের সুপার কম্পিউটারের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। আগামী বছরের মধ্যেই এই সুপার কম্পিউটার উন্মোচন করা হবে।

২০১৮ সালে ইরান বৈজ্ঞানিক জ্ঞান উৎপাদনে পশ্চিম এশিয়ায় প্রথম এবং বিশ্বে ১৬তম স্থান অর্জন করেছে।

সূত্র: রেডিও তেহরান