হাইটেক পার্কগুলো ঘিরে তিন লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের কথা বলা হলেও এর বাস্তব অগ্রগতি এখনো ধীর গতিতে এগোচ্ছে। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের উন্নয়ন বাজেটে অন্তর্ভুক্ত প্রকল্প সংখ্যা ৬টি। এখানেই কর্মসংস্থান করবে সরকার। অবশ্য হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ বলছে, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ সেন্টার ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনবল তৈরি করা হচ্ছে। হাইটেক পার্কগুলোর মাধ্যমে ২০২০ সালের মধ্যে ৫০০ কোটি ডলার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সফটওয়্যার ও সেবা রপ্তানি করবে বাংলাদেশ। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।

চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়ন অগ্রগতি সামান্য। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রাজশাহী হাই-টেক পার্ক (বরেন্দ্র সিলিকন সিটি) স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের সর্বোচ্চ অগ্রগতি ৬৮ শতাংশ। সর্বনিম্ন অগ্রগতি জেলা পর্যায়ে আইটি/হাই-টেক পার্ক স্থাপন (১২টি জেলায়) প্রকল্পে ১ শতাংশ। কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক (এবং অন্যান্য হাই-টেক পার্ক)-এর উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৬১ শতাংশ। সিলেট (সিলেট ইলেকট্রনিকস সিটি)-এর প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি ৫৫ শতাংশ। শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার শীর্ষক প্রকল্পের অগ্রগতি ৩০ শতাংশ। এর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন প্রকল্পের অগ্রগতি ৪৪ দশমিক ২৫ শতাংশ।

ফলে ২০২০ সালকে লক্ষ্য ধরে হাইটেক পার্কে কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়া শেষ হবে না বলেই জানিয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।

আইটি/আইটিইএস খাতে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ২০১০ সালে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি পরিচালনায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সভাপতিত্বে নির্বাহী কমিটি এবং প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বোর্ড অব গর্ভনেন্স (বিওজি) রয়েছে।

হাইটেক পার্কের তথ্য অনুযায়ী, তাদের প্রকল্পের মোট ব্যয় তিন হাজার ১০৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত তাদের ৩টি পার্ক নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জনতা টাওয়ার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, নাটোরে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার। এ ছাড়া গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাই-টেকসিটির নির্মাণকাজ চলছে।

সরেজমিনে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হচ্ছে জাতীয় তথ্যভান্ডার বা জাতীয় ডেটা সেন্টার। এটিকে ‘হার্ট অব ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বলছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। তাঁরা বলছেন, জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সেন্টার আগামী জুন মাস নাগাদ পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু হবে এর। তখন চাইলে বাণিজ্যিকভাবে কাজ শুরু করা যাবে। সেখানে সামিট টেকনো পলিশ লিমিটেডের ৬০ হাজার বর্গফুটের শিল্প ভবনের কাজ শেষ। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক কোম্পানি ভাইব্রেন্ট সফটওয়্যারের নির্মাণাধীন ভবনের ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ টেকনো সিটির ২ লাখ বর্গ ফুটবিশিষ্ট ৮ তলা ভবনের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে ২৬টি দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখান থেকে তারা ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, পিসি ও বিভিন্ন এক্সেসরিজ তৈরি বা সংযোজন করবে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে বিনিয়োগ হবে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার মাধ্যমে কর্মসংস্থান হবে প্রায় এক লাখ তরুণ-তরুণীর। বর্তমানে এই পার্ক থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আইটি পণ্য রপ্তানি শুরু করেছে।

হাইটেক পার্কের তথ্য অনুযায়ী, তাদের ৩টি পার্ক, বঙ্গবন্ধু হাই-টেকসিটি এবং ১৩টি বেসরকারি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে এ পর্যন্ত ৮ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মধ্যে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৪ হাজার ৪৭৬ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তিন হাজার ১০০ জনের প্রশিক্ষণ চলমান এবং আরও ৪৫ হাজার জনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক কোম্পানির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ৬৬টি প্রতিষ্ঠানকে সার্টিফিকেশনের জন্য সহায়তা দিয়েছে হাইটেক পার্ক।

বাস্তবতা
সরকরি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ যুবক দেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করে। সরকার প্রতি বছর নিয়ম করে কিছু চাকরির ব্যবস্থা করে। কিন্তু বিপুল চাহিদার বড় অংশই প্রত্যাশা করে বেসরকারি খাতের কাছে। এই তরুণ জনগোষ্ঠীকে চাকরি বা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে হাইটেক পার্ক ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। এর খানিকটা চিত্র দেখা যায় ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে। ওই পার্কে সেদিন আয়োজন করা হয়েছিল চাকরি মেলার। ঢাকা থেকে ৩০ টির মতো দেশি-বিদেশি কোম্পানি এতে অংশ নেয় কর্মী নিয়োগ দেবে বলে। কথা ছিল, প্রার্থীরা মেলায় এসে কোম্পানিগুলোর স্টল ঘুরে কোথায় কি চাকরি-যোগ্যতা ইত্যাদি জেনে উপযুক্ত জায়গায় সিভি জমা দেবে। এরপর তা বাছাই করে স্পট ইন্টারভিউয়ে প্রাথমিক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। কিন্তু প্রার্থীদের জনসমুদ্রের স্রোতে পরিস্থিতি সামলাতে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। মেলার ভেতরে ঢুকতে না পেরে পুলিশের কাছে, গেটের দিকে ছুড়ে সিভি ফেলে যায় প্রার্থীরা। দিন শেষে হাজার হাজার সিভির স্তূপ জমে পাহাড় হয়ে যায়।

যশোরের হাইটেক পার্ক এখন পুরোপুরি চালু হয়েছে। সেখানে যে ২৫টি প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ১৫ টির মতো। বাকিগুলো ঢাকাভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শাখা। সেখানে জায়গা বরাদ্দ পেলেও অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো কাজ শুরু করেনি। সব মিলিয়ে এ পার্কে ৩০০ থেকে ৪০০ কর্মসংস্থান হয়েছে। এখানকার কর্মীদের অধিকাংশ খন্ডকালীন কাজ করছেন। তাঁদের বেতন ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে গড়ে ওঠা দেশের অন্যতম বৃহৎ হাইটেক পার্ক সিলেট ইলেকট্রনিকস সিটির মৌলিক অবকাঠামোগত কাজ শেষ পর্যায়ে। ডিসেম্বরে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প শেষ করার কথা থাকলেও জুলাই মাস নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পে পরিচালক সরওয়ার আহমেদ। তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখানে ওয়ানস্টপ সার্ভিসের আওতায় বিনিয়োগকারীদের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে।

এ পার্কে অন্তত ৫০ হাজার দক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। রাজধানীর কাওরান বাজারে ২০১৫ সালে চালু হওয়াজনতা টাওয়ার টেকনোলজি পার্কে ১৫টি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইটি কোম্পানি ও ৫০টির মতো উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান বিনা মূল্যে প্রয়োজনীয় জায়গা পেয়েছে। সফটওয়্যার পার্কের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গড়ে ১০ থেকে ৫০ জনের মতো কর্মী কাজ করছেন। রাজশাহীর হাইটেক পার্কে ১৪ হাজার জনের কর্মসংস্থানের আশা করছে সরকার। এর বাইরে সরকার ৩ হাজার ৫৩০ জনের চাকরির সংস্থানের জন্য ১২টি সংস্থা ও বেসরকারি ইন্সটিটিউটকে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক হিসেবে ঘোষণা করেছে। এসব পার্কও সরকারি হাই-টেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের মতো সুবিধা পাচ্ছে। এর মধ্যে ডেটাসফট সিস্টেমস বাংলাদেশ লিমিটেড ও বিজেআিইটি লিমিটেড থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আসছে বলে দাবি করছে সরকার।

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ১২টি জেলায় আইটি পার্ক স্থাপনের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করেছে। জেলাগুলো হচ্ছে—রংপুর, নাটোর (সিংড়া), খুলনা (কুয়েট), বরিশাল (সদর), ঢাকা (কেরানীগঞ্জ), গোপালগঞ্জ (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), ময়মনসিংহ (সদর), জামালপুর (সদর), কুমিল্লা (সদর দক্ষিণ), চট্টগ্রাম (সদর), কক্সবাজার (রামু) ও সিলেট। নির্বাচিত প্রতিটি জেলায় একটি করে মাল্টি-টেন্যান্ট ভবন (১,০৫, ০০০ বর্গফুট, ৭ তলা) ; ক্যান্টিন ও অ্যাম্ফিথিয়েটার ভবন (২১,০০০ বর্গফুট, ৩ তলা) নির্মাণ করা হবে। একইসাথে নির্ধারিত জেলাসমূহের মধ্যে ৮টি জেলার প্রতিটিতে একটি করে ৩ তলা বিশিষ্ট ডরমেটরি ভবন (১৮,০০০ বর্গফুট) নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হবে। জুন ২০২০ এর মধ্যে বাস্তবায়নাধীন পার্কগুলোতে মোট ৬০ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত মাত্র ১ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ২০২১ সালের হাইটেক পার্কের কাজ শেষ হলে সরাসরি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। তথ্যপ্রযুক্তিখাতে দক্ষতা অর্জন করতে পারলে কাউকে আর কর্মসংস্থান নিয়ে ভাবতে হবে না। ২৮টি পার্কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে আইটি শিল্পের জন্য ২৮ লাখ ৭২ হাজার বর্গফুট স্পেস গড়ে উঠবে।

সরকারের পক্ষ থেকে হাইটেক পার্ক ঘিরে যে প্রত্যাশা তা পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি মো. শাহিদ-উল-মুনীর। তিনি বলেন, হাইটেক পার্কের বিষয়টি শিল্পখাত ভিত্তিক। শিল্প ও প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এটা করতে সময় লাগে। এ উদ্যোগ শুরু হয়েছিল চার বছর আগে। এখন থেকে ইন্ড্রাস্ট্রি ও সরকার মিলে একসঙ্গে কাজ করলে নির্দিষ্ট সময়ে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। তবে তরুণদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নিয়ে হবে। ইন্ড্রাস্টি থেকে পরামর্শ শুনে সে অনুযায়ী সরকারের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইন্ড্রাস্টিকেও সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসতে হবে।

বেসিসের সাবেক সভাপতি ও ইজেনারেশনের চেয়ারম্যান শামীম আহসান বলেন, হাইটেক পার্ক ঘিরে প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল। এতদিনে কমপক্ষে লাখ খানেক কর্মসংস্থান করার কথা ছিল। সেদিক থেকে আমরা পিছিয়ে আছি। ঢাকা ও চট্টগ্রামে যেহেতু চাহিদা বেশি সেগুলোতে অহগ্রাধিকার প্রয়োজন ছিল। এখন লক্ষ্যের দিকে এগোতে হলে ফোকাস থাকতে হবে। দ্রুত ট্রেন যোগাযোগ প্রয়োজন হবে। ইন্ড্রাস্টি, একাডেমি ও সরকারের টাস্কফোর্স গঠন করে কাজ করতে হবে।

হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, শতভাগ অর্জন হয়ে গেছে—এখনই বলব না। তবে শিগগিরই আলোর মুখ দেখব। দুই তিনটি পার্ক এর মধ্যে কাজ শুরু করেছে। সেখানে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। আমাদের কর্মপরিসর বড় ও ভালো হচ্ছে। আমাদের আরও অনেক কাজ করতে হবে। সরকারের সহায়তায় আমাদের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

এর আগে হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি’ বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের প্রথম প্রকল্প। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এ পার্কের প্রয়োজনীয় সকল অফসাইট ইনফ্রাস্ট্রাকচার নির্মাণের কাজ শেষ করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভ ফর জবস’ শীর্ষক প্রকল্প এখানে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কাজ করবে। এই কোম্পানিগুলো ও প্রকল্পটি এখানে ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ ও প্রায় ২০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম প্রিয়শপ ডটকমের ঈদ ফেস্টে পাওয়া যাবে কোরবানির গরু। প্রতিষ্ঠানটির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিভিন্ন পণ্যে ছাড়, ক্যাশব্যাক অফার চালু করেছে তারা। ঘরে বসেই কোরবানির গরু কিনলে বিনা মূল্যে ডেলিভারি সুবিধা দেবে তারা। ১২ আগস্ট পর্যন্ত তাদের অফার চালু থাকবে।

এ ছাড়া ডিজিটাল স্কেল, ছুরি, কাঁচি ও চামচ, স্লাইসার ইত্যাদি পণ্যে ছাড় ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া থ্রি-পিস, গজ কাপড়, শাড়ি, বাহারি পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, পোলো টি-শার্ট, বাচ্চাদের ড্রেস, ইম্পোর্টেড জুয়েলারি, রোদ চশমা, ঘড়ি, চামড়ার বেল্ট, ওয়ালেট, ঘর সাজানোর সামগ্রী, ইলেকট্রনিক পণ্যে ঈদের বিশেষ মূল্য ছাড় দিচ্ছে প্রিয়শপ।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী শুক্র এবং শনিবার রাজধানীসহ কিছু কিছু এলাকার ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক/কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

রবিবার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঈদুল আজহার আগে তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক/কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে আগামী ৯ ও ১০ আগস্ট শুক্র এবং শনিবার পূর্ণ দিবস ব্যাংক খোলা থাকবে।

যেসব এলাকায় খোলা থাকবে

ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শুক্রবার এবং শনিবার পূর্ণ দিবস ব্যাংক খোলা রাখার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিডি-প্রতিদিন

জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলবর্তী অঞ্চলে ৬.২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রবিবার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। তবে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, এতে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।

এ ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দেশটির আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ফুকুশিমা উপকূল থেকে কিছুটা দূরে সাগরপৃষ্ঠের ৫০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। এতে তাৎক্ষণিক কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ফেসবুকভিত্তিক রক্তদান সেবার প্রায় ৩ বছরের দীর্ঘ পথচলা শেষে এবার তারা রক্তদান প্রক্রিয়াকে আরো সহজভাবে মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে বাজারে ছেড়েছে ব্লাড ব্যাংক অ্যাপ!

ছারপোকা ব্লাড ব্যাংক নামের এই অ্যাপটি  বাংলাদেশের সবচেয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত অ্যাপ। এতে রয়েছে এমন কিছু ফিচার, যা বাংলাদেশের ব্লাডব্যাংক অ্যাপসগুলোয় আগে কখনো ব্যবহৃত হয়নি। জরুরী ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজনে এই অ্যাপটির মাধ্যমে খুব সহজেই রোগীর নিকটবর্তী এলাকার রক্তদাতাকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। সাথে পাওয়া যাবে ডোনারের মোবাইল নম্বর। খুব সহজেই যে কেউ ব্যবহার করতে পারবেন এই অ্যাপটি, কোনোপ্রকার ঝামেলা ছাড়াই।

ছারপোকা ব্লাড ব্যাংক অ্যাপের ফিচার এবং অন্যান্য অানুসঙ্গিক বিষয়গুলোঃ

গুগল প্লে-স্টোরে Charpoka Blood Bank লিখে সার্চ দিলে প্রথমেই অ্যাপটি চলে আসবে। ইনস্টল করে অ্যাপটি ওপেন করার পর আপনার নাম, ফোন নম্বর, এলাকার নাম ও ব্লাডগ্রুপ দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। ব্যাস, একইসাথে আপনি ইউজার এবং ডোনার হিসেবে ছারপোকার ডাটাবেজে নিবন্ধিত হয়ে যাবেন !

অ্যাপটির Make Request অপশনে ক্লিক করে আপনি রক্ত চেয়ে সবার কাছে অনুরোধবার্তা পাঠাতে পারেন। অথবা All Donor অপশনে গিয়ে সব ডোনারের তালিকা দেখতে পারেন। এছাড়াও Search Donor অপশনে নিজের সুবিধামত ব্লাড গ্রুপ বা এলাকার নাম লিখে সার্চ দিয়ে ডোনার খুঁজে নিতে পারেন। ভেতরকার সামান্য দায়িত্ব ও মানবতাবোধের অভাবে সঠিক সময়ে সঠিক ডোনার খুঁজে পাওয়া যায় না।

ছারপোকা ব্লাড ব্যাংক দেশের সব ডোনারকে এক প্লাটফর্মে এনে দাঁড় করানোর ব্যবস্থা করেছে, এমনটাই মনে করছেন ছারপোকার পরিচালক কাজী নিপু ! ২০২০ সালের মধ্যে এর ডাটাবেজে সারা বাংলাদেশ থেকে ২০ লাখ রক্তদাতা অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছেন তিনি। ছারপোকার আরেক স্বপ্নদ্রষ্টা অকাল প্রয়াত সুমাইয়া সুলতানা আদিবা কে অ্যাপটি উৎসর্গ করা হয়েছে।

অ্যাপটি নির্মাণে কাজ করেছেন প্রজেক্ট ছারপোকার ডেভেলপার ফাহিম আকবর এবং সার্বিক তত্বাবধানে কাজ করছেন আহমেদ অরিত্র ও আশিকুর রহমান মৃন্ময়। অ্যাপটি মুঠোফোনে পেতে গুগল প্লেস্টোরে Charpoka Blood Bank লিখে সার্চ করুন।

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন সেবা নগদ-এর অ্যাপ বৃহস্পতিবার থেকে জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম আইওএস থেকে ডাউনলোড করা যাবে। এর ফলে গ্রাহকরা আইফোন ও আইপ্যাডেনগদ অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন।

এর আগে নগদ-এর অ্যাপ শুধু অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে ব্যবহার করা যেত। অ্যাপটির সহজ ব্যবহারযোগ্যতার ফলে এটি ইতিমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

আইওএস অ্যাপটিতে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের সব সুবিধা বিদ্যমান। অ্যাপটির মাধ্যমে গ্রাহকেরা অন্যান্য নগদ গ্রাহকদের টাকা পাঠাতে পারবেন, ক্যাশ আউট করতে পারবেন, মোবাইল ব্যালেন্স রিচার্জ করতে পারবেন এবং কেনাকাটা করতে পারবেন।

এই অ্যাপের সবচেয়ে অভিনব যে সেবাটি সম্ভাব্য গ্রাহকেরা উপভোগ করতে পারবেন তা হলো স্বীয় নিবন্ধন ফিচারটি। এর জন্য গ্রাহকদের নিজেদের একটি ছবি অথবা সেলফি এবং নিজেদের জাতীয় পরিচয়পত্রের উভয় পাশের ছবি থাকতে হবে।

নগদ অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে ডিজিটাল কেওয়াইসি ফর্মটি পূরণ করে জাতীয় তথ্যভান্ডার থেকে তথ্য যাচাই করে নেবে। নতুন অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন করতে এক মিনিটের বেশি সময় লাগে না। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সম্প্রতি প্যারিস কল এ যোগ দিয়েছে হুয়াওয়ে। প্যারিস কল এমন একটি ঘোষণাপত্র, যার মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ সকলেই একটি নিরাপদ সাইবারস্পেস প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করে।

প্যারিস কল এর সদস্য হওয়ার জন্য আরও ৫৬৪টি সংস্থার সাথে নিজেদেরকে যুক্ত করেছে এবং এই ৫৬৪ টি সংস্থার সকলেই ডিজিটাল পণ্য এবং ডিজিটাল সিস্টেমগুলির সুরক্ষা জোরদার করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে ৬৭টি ষ্টেট, ১৩৯ টি আন্তর্জাতিক ও সামাজিক সংস্থা এবং ৩৫৮টি বেসরকারি কোম্পানি।

২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে ফরাসি সরকার প্যারিস কল এর প্রবর্তন করে, যার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং ইস্যুগুলি সমাধানের লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে। ডিজিটাল পণ্যগুলিকে আরো নিরাপদ, সাইবার ক্রাইমের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং সীমানার বাইরে থাকা অংশীদারদের সাহায্য করার প্রয়াস নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে চুক্তিবদ্ধ সকল সদস্যরা।

তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক পণ্যের একটি শীর্ষস্থানীয় সরবরাহকারী হিসাবে হুয়াওয়ে তাদের তৈরিকৃত পণ্য এবং সরবরাহকৃত সল্যুশনসগুলিকে যতটা সম্ভব সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে প্রচুর গবেষণা করে এবং এই খাতে তাদের বিনিয়োগও প্রচুর। বর্তমানে প্রায় ১৭০ এর অধিক দেশে হুয়াওয়ের কার্যক্রম চলছে এবং সেখানে কাজ করছে প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার কর্মী, যারা প্রতিনিয়ত সেবা দিয়ে যাচ্ছে তিন বিলিয়নেরও অধিক মানুষকে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল শেষে হুয়াওয়ের আয় প্রথমবারের মতো ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১৯.৫% বেশি। এছাড়া গবেষণা ও উন্নয়নে (আরএন্ডডি) হুয়াওয়ের বিনিয়োগ মোট বার্ষিক রাজস্বের ১৪.১% এবং এই সেক্টরে কাজ করছে ৮০ হাজারের অধিক কর্মী। এছাড়াও সমস্ত গ্রাহক এবং ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্যও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কোম্পানিটি।

এ প্রসঙ্গে হুয়াওয়ের গ্লোবাল সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রাইভেসি অফিসার জন সাফল্ক বলেন, ‘আমাদের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি হচ্ছে উন্নতর সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করা। সরকার, গ্রাহক এবং তাদের গ্রাহকদের জন্য পণ্য এবং পরিসেবাগুলির স্থিতিস্থাপকতা এবং সুরক্ষা বৃদ্ধি করতে পারে এমন যেকোনো প্রচেষ্টা, ধারণা বা পরামর্শকে আমরা সমর্থন করি। এছাড়াও, আমরা ওপেননেস, ট্রান্সপারেন্সি এবং আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত মানদন্ড মেনে চলাসহ সাইবার ক্রাইম থামানোর ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উনয়নের জন্য বিশ্বব্যাপী সহযোগিতামূলক পদক্ষেপগুলিকে সমর্থন করি।’

প্যারিস কলের সদস্য হিসেবে, হুয়াওয়ে সমস্ত প্রযুক্তিপণ্যের সরবরাহকারীদের উদ্দেশ্যগত পরীক্ষা এবং মান যাচাইকরণের ক্ষেত্রে পরামর্শ প্রদান করবে। যেকোনো ভেন্ডরের তৈরিকৃত প্রযুক্তিপণ্যের নিরাপত্তা নিরীক্ষণে তৃতীয় পক্ষ নিয়োগ করার ফলে এটা নিশ্চিত করা যাবে যে, নিরাপত্তা বিষয়ে দেয়া সিদ্ধান্তগুলি পুরোটাই তথ্য এবং উপাত্তের ভিত্তিতে নেয়া। এর মধ্যে থাকবে না কোন আবেগ কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব।  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

নিজেদের মালিকানাধীন জনপ্রিয় মেসেজিং সেবা ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের নাম পরিবর্তনের পরিকল্পনা এঁটেছে ফেসবুক। নতুন এ উদ্যোগের আওতায় ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের নতুন নাম হবে যথাক্রমে ‘ইনস্টাগ্রাম ফ্রম ফেসবুক’ এবং ‘হোয়াটসঅ্যাপ ফ্রম ফেসবুক’। অর্থাৎ দুটি অ্যাপের নামের পরে যুক্ত করা হবে ‘ফ্রম ফেসবুক’। অ্যাপস্টোরের পাশাপাশি গুগল প্লেস্টোরে এই নামেই পাওয়া যাবে ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের সব সংস্করণ। নাম পরিবর্তনের ফলে যে কেউ সহজেই অ্যাপ দুটিকে ফেসবুক পরিবারের বলে শনাক্ত করতে পারবে।

ফেসবুকের মুখপাত্র জানান, ফেসবুকের সব সেবা ও পণ্য সম্পর্কে সবাইকে স্পষ্ট ধারণা দিতেই এ উদ্যোগ। সব কিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই নাম পরিবর্তন করা হবে। সম্প্রতি এক ঘোষণায় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের বার্তা বিনিময় সেবা একই পদ্ধতিতে পরিচালনা করা হবে। ফলে যেকোনো একটি অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে বার্তা পাঠানো যাবে। শুধু তা-ই নয়, সেই বার্তার উত্তরও মিলবে।

সূত্র : দ্য ভার্জ