‘এমপি পাপুলের কারণে গোটা কুয়েত প্রবাসী আইসিইউতে’

ক্যাটাগরি: অন্যান্য, অপরাধ, জাতীয়, প্রবাস, রাজনীতি, শিরোনাম, সর্বশেষ-সংবাদ

Posted: February 17, 2020 at 10:17 am

এমপি পাপুলের কারণে গোটা কুয়েত প্রবাসী আইসিইউতে-Digital Khobor

কুয়েতঃ কুয়েতের ইতিহাসে ভয়াবহ মানবপাচার ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুর ২-আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ শহিদুল ইসলাম পাপুল এর বিরুদ্ধে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই কুয়েতের একাধিক জাতীয় দৈনিক পত্রিকা গুলোতে প্রধান শিরোনামে নিউজ প্রচার করছে। সেইসাথে দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন ও পেপার পত্রিকা সহ বেশকিছু অনলাইনেও এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা নিয়ে প্রধান শিরোনামে নিউজ করছে আজ কয়েকদিন যাবত।

অন্যদিকে কুয়েতের বাংলাদেশ কমিউনিটিতে সর্বকালের সেরা আলোচিত বিষয়ের ও স্থান করে নিয়েছে এই ঘটনা। চরম অনিশ্চয়তার মুখোমুখি প্রায় সাড়ে তিন লাখ কুয়েত প্রবাসীর অনাগত ভবিষ্যৎ। সবচেয়ে বেশি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এমপি পাপুল এর কোম্পানিতে কর্মরত ১৫ থেকে ২০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীর কর্মহীন হওয়া বা আকামা জটিলতার বিষয়টিও। পত্রিকায় শিরোনাম ও কমিউনিটিতে আলোচনা যাকে নিয়ে এবং বিশেষ করে ১৫ থেকে ২০ হাজার প্রবাসীর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর ভিসা-আকামা জটিলতা সৃষ্টির আশংকা যার জন্য, তিনি হচ্ছেন, কুয়েতের বাংলাদেশ কমিউনিটিতে সর্বকালের সেরা আলোচিত ও সমালোচিত ব্যক্তি শহিদুল ইসলাম পাপুল।

ইতিমধ্যে দেশী -বিদেশী শতাধিক পত্রিকার শিরোনাম হয়েছেন কুয়েতে সাধারণ শ্রমিক হয়ে আসা পাপুল। ভাগ্য ছিল তার সুপ্রসন্ন, কাজেই খুবই কম সময়ে অবৈধ পথ অবলম্বন করে মধ্যপ্রাচ্যের এদেশটিতে জিরো থেকে রীতিমতো কালোবাজারি হিরো হয়েছেন তিনি, এমনকি কুয়েতে বাংলাদেশের প্রিন্সের আখ্যাটিও পেয়েছেন এসময়ের সবচেয়ে সমালোচিত এ ব্যক্তি। অবৈধ টাকার পাহাড় গড়ে দৃশ্যমান অর্থবলে বাংলাদেশের সাংসদ পর্যন্ত হতে পেরেছেন কুয়েতের পাপুল।

সম্প্রতি কুয়েতে অবৈধ মানব পাচারকারী বা ভিসা ব্যবসায়ীদের দমন করার লক্ষ্যে দেশটির স্থানীয় প্রশাসন বেশ তৎপর ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। এরই মধ্যে অবৈধ ভিসা ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে বেশ কিছু বাংলাদেশী ভিসা দালালকে গ্রেপ্তার করে নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে এতদিন যাবত মানব পাচারকারী বা ভিসা ব্যবসায়ীদের তালিকায় থাকা রাঘব বোয়ালরা ছিলেন অনেকটাই ধরাছোঁয়ার বাইরে। অবশেষে রাঘববোয়ালদের সেরা মানব পাচারকারী ও ভিসা দালাল শহিদুল ইসলাম পাপুলের নাম উঠে আসে স্থানীয় পত্রিকায়।

গত দু’তিন দিন ধরে বেশ গুরুত্ব দিয়েই কুয়েতের দৈনিক পত্রিকা আল-কাবাস, আরব টাইমস ও কুয়েত টাইমস সহ অন্যান্য পত্রিকা গুলো তাদের প্রথম পাতার খবরে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে চলেছে কুয়েতে পাপুলের ক্লিনিং কোম্পানির একজন সাধারণ শ্রমিক থেকে মাল্টি মিলিয়নেয়ার হওয়ার লোমহর্ষক ঘটনা। দেশটির পত্রিকা গুলো উল্লেখ করেছে কুয়েত থেকে অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জন ও অর্থপাচার এর মাধ্যমে বিপুল অর্থ ব্যয় করে বাংলাদেশে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতাও অর্জন করেছেন কুয়েত প্রবাসী এই পাপুল।

সম্প্রতি মানবপাচারকারী বা ভিসা দালালদের বিরুদ্ধে কুয়েত সরকার সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির সদ্য অভিযানের মুখে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম পাপুল কুয়েত ছেড়েছেন। কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ এর বরাত দিয়ে স্থানীয় পত্রিকা গুলোতে প্রকাশিত খবরে জানাগেছে, বাংলাদেশের বর্তমান সাংসদ পাপুল ছাড়াও মানবপাচার ও অবৈধ ভিসা ব্যবসায় আরও দুজনের নাম এসেছে। কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, সাংসদ পাপুলকে নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশের পর কুয়েত সিআইডিতে তারা তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করেছেন।

সিআইডি থেকে মারাফিয়া কুয়েতি গ্রুপ অব কোম্পানীজ এর স্বত্বাধিকারী কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি লক্ষীপুর-২ আসনের এমপি।
বিগত জাতীয় নির্বাচনে ওই আসনে ১৪ দলীয় জোট ও জাতীয় পার্টির সমঝোতার মাধ্যমে মনোনয়ন পেয়েছিলেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ নোমান। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন পাপুল। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন। পরে এক পর্যায়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান জাতীয় পার্টির প্রার্থী। আলোচনা ছিল মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পাপুল ওই প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেন।

বিষয়টি নির্বাচনের সময়ই বেশ আলোচিত ছিল। কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, সংসদ সদস্য পাপুল কুয়েতে নেই এটাও নিশ্চিত করেছে সিআইডি। তবে কুয়েতি সংবাদ মাধ্যমে একজন গ্রেপ্তারের যে খবর বেরিয়েছে তার বিস্তারিত জানতে সিআইডিকে চিঠি দেয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। কুয়েতি সংবাদ মাধ্যমে বাংলাদেশি এমপির ব্যবসা পেতে বিশালবহুল গাড়ি উপহার দেয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

সাংসদ পাপুলের প্রোফাইল এবং নির্বাচন কমিশনে দেয়া হলফনামা ঘেটে দেখা যায়, নির্বাচনী হলফনামায় তিনি পেশা ‘ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বা আন্তর্জাতিক ব্যবসা দেখিয়েছেন। তার প্রোফাইল বলছে,  কুয়েত ছাড়াও জর্ডান, ওমানে লোক পাঠান তিনি। কুয়েত আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষক দাবিদার কাজী শহীদুল ইসলাম পাপুল জাতীয় নির্বাচনে আপেল প্রতীকে নির্বাচন করেন। যদিও কুয়েতের বাংলাদেশ কমিউনিটি নেতারা বলছেন, গত ৭ থেকে ৮ বছর আগেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কুয়েত শাখার আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন পাপুল।

এমপি পাপুলের কারণে গোটা কুয়েত প্রবাসী আইসিইউতে-Digital Khobor
এমপি পাপুল বিএনপিতে থাকাকালীন তার ছবিঃ
এমপি পাপুলের কারণে গোটা কুয়েত প্রবাসী আইসিইউতে-Digital Khobor
এমপি পাপুল বিএনপিতে থাকাকালীন ছবি

কুয়েতের স্থানীয় দৈনিক আল কাবাসের খবরে জানানো হয়- প্রাথমিক পর্যায়ে কুয়েতের একটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং পরে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে নিজেই মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানি নামক প্রতিষ্ঠানটির একজন অংশীদার হয়ে ওঠেন। বর্তমানে উক্ত কোম্পানিতে ২০ থেকে ২৫ হাজার বাংলাদেশী শ্রমিকরা কাজ করছেন।
এরপর আর তার পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নিজের মতো করে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে শুরু করেন। পাপুল কুয়েতে এমন বেশকিছু টেন্ডার কেনেন, যেগুলো লাভজনক ছিল না। সেগুলো কেনার উদ্দেশ্য ছিল, চুক্তিগুলোর আওতায় কুয়েতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নেয়া। এসব কর্মী নেয়ার মাধ্যমে আয় করা অর্থ দিয়েই ওই টেন্ডারগুলোর অর্থায়ন করতেন তিনি।

অবৈধভাবে আয় করতেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। বাংলাদেশি শ্রমিক নেয়ার জন্য কুয়েতে তার প্রতিষ্ঠানটি যেন সরকারি চুক্তি পায় সেজন্য সরকারি কর্মকর্তাদের ৫টি বিলাসবহুল গাড়ি উপহার দিয়েছিলেন। আল কাবাসের প্রতিবেদনে অভিযানের মুখে কুয়েতত্যাগী সুলতান নামের অপর মানবপাচারকারীর নামে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। বলা হয়েছে, কুয়েত থেকে পালিয়ে গেলেও সুলতানের নিজের প্রতিষ্ঠানের উচ্চ-পদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

তিনি বিপুল অর্থের বিনিময়ে সেখানে শ্রমিক নেন। এজন্য বহু দালালের ব্যবহার করেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ডে প্রাপ্ত অর্থ কুয়েতের বাইরে একটি ব্যাংক একাউন্টে জমা রাখেন তিনি। কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, সুলতানের বিষয়ে তাদের কাছেও নেতিবাচক রিপোর্ট রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়- ১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকার বিরাট অংকের অর্থপাচার, মানবপাচার ও ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে বাংলাদেশি সাংসদ পাপুলের বিরুদ্ধে তদন্ত চালু করেছে কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।অন্যদিকে, একই অভিযোগে অপর এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কুয়েতের গণমাধ্যম আরবটাইমস অনলাইন দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এমনটা বলেছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, এ বিষয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে কুয়েতের দৈনিক আল-কাবাস। তারা জানায়, অজ্ঞাত এক বাংলাদেশিকে অর্থ ও মানবপাচার এবং ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তি তিন ব্যক্তি নিয়ে গঠিত একটি চক্রের সদস্য ছিলেন। চক্রের বাকি দুই সদস্য কুয়েত ছেড়ে পালিয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের পরিচয় হিসেবে বলা হয়েছে, তিনি সম্প্রতি বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্য হয়েছেন।

স্থানীয় পত্রিকায় উঠে আসে, অভিযুক্তরা কুয়েতের তিনটি বড় প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে গৃহকর্মী হিসেবে ২০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিককে কুয়েতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এসব শ্রমিকদের কুয়েতে পাঠানোর বিনিময়ে ৫ কোটি কুয়েতি দিনার বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকার বেশি নিয়েছেন।

স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, এক সপ্তাহ আগে পাপুল তার বিরুদ্ধে সিআইডির তদন্ত চালু হওয়ার তথ্য জানতে পারেন। এরপর সঙ্গে সঙ্গেই কুয়েত ছাড়েন পাপুল। এদিকে স্থানীয় এক সূত্রে জানাগেছে, পাপুল কর্তৃক পরিচালিত কুয়েতি মারাফিয়া কোম্পানির কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়া হয়েছে। সূত্র আরো জানিয়েছে, অভিযুক্ত তিন ব্যক্তি বাংলাদেশে ভিসা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত বলে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে সিআইডি কর্মকর্তারা। বাংলাদেশে তাদের বড় ধরনের নেটওয়ার্ক রয়েছে। তাদের হয়ে কাজ করেন অনেক কর্মী বলেও জানায় সূত্রটি। তদন্তে আরো বের হয়ে আসে, গড়পড়তা শ্রমিক প্রদানের জন্য ওই নেটওয়ার্কের প্রতি কর্মীকে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ দিনার করে পরিশোধ করা হয়।

অন্যদিকে, ড্রাইভার ভিসা বিক্রি করা হয় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০০০ দিনার করে। কুয়েতে স্বাভাবিক নিয়মে বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা বন্ধ দীর্ঘদিন ধরে, এ পরিস্থিতিতে যখন কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে ফের দেশটিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার চেষ্টা চলছে, ঠিক তখন শহিদুল ইসলাম পাপুল গংদের কারণে কুয়েতে বাংলাদেশের বৃহৎ শ্রমবাজার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কুয়েত প্রবাসীরা মনে করছেন, বর্তমান পাপুল গংদের ইস্যুতে দেশটিতে থাকা প্রায় সাড়ে তিন লাখ প্রবাসী বাংলাদেশীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি ওইসব শ্রমিকদের জীবন চরম অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলেও মনে করছেন কুয়েতের বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

কমিউনিটি নেতারা জানান, সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন শহিদুল ইসলাম পাপুলের মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানিতে কর্মরত প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার প্রবাসী শ্রমিকরা। কুয়েত আওয়ামীলীগ একাংশের সভাপতি, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, কয়েক বছর আগে কুয়েত আওয়ামীলীগে পাপুলের অনুপ্রবেশ এর ফলে দেশটিতে আওয়ামীলীগের সবচেয়ে বড় সর্বনাশ হয়েছে।

তিনি আরো জানান, যেখানে কুয়েতে দলের বিভক্তি মেটাতে রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম একটি পদক্ষেপ নেন, সেখানে এই পাপুলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ভেস্তে যায় সেই পদক্ষেপ বর্তমানে কুয়েতের বাংলাদেশ কমিউনিটিতে প্রবাসীদের চরম এক পরিস্থিতির উদাহরণ দিতে গিয়ে কুয়েতে বাংলাদেশ কমিউনিটি আরেক নেতা বলেন, কুয়েতে আমরা প্রবাসীরা এখন আইসিইউতে আছি। কমিউনিটি এ নেতা আরো বলেন, কুয়েতে পাপুলসহ গুটিকয়েক বাংলাদেশীর অপরাধের কারণে এর ভুক্তভোগী দেশটিতে থাকা লাখো প্রবাসী বাংলাদেশীরা।

উল্লেখ্য, কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক পালিত গেলো আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম মানব পাচার ও ভিসা ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে আরেক রাঘববোয়ালের নাম প্রকাশ করেছেন, সেই বাংলাদেশীও কুয়েতে বৃহৎ একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। তাকে কুয়েতে বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রবাসীরা ডায়মন্ড জাহাঙ্গীর নামে চিনেন। তার পুরো নাম জাহাঙ্গীর হুসেন পাটুয়ারী।

সাংসদের বিরুদ্ধে এমন খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। পাপুলের বিষয়ে রায়পুর পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আইনুল কবির মনির বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী ছিলেন জাতীয় পার্টির মো. নোমান। পরে কী কারণে তিনি নির্বাচন থেকে সরে গেলেন সেটা কেউ নিশ্চিত নয়। এরপর স্বতন্ত্র প্রার্থী পাপুলের পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরা কাজ করে তাকে বিজয়ী করেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগে নেতকর্মীরা বিব্রত। যেহেতু তিনি সংসদ সদস্য, তাই প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করেবন বলে আশা করি।’

এদিকে গতকাল রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদকের প্রতি অনুরোধ জানান কাদের।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল। তিনি দাবি করছেন, কুয়েত সরকার ও ব্যবসায়ীদের ষড়যন্ত্রের শিকার তিনি। তিনি কুয়েত থেকে পালিয়ে দেশে আসেননি। সব সময় আসা-যাওয়ার মধ্যে রয়েছেন। কোনোভাবে মানবপাচারের সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবী করেন এ সংসদ সদস্য।

পাপুলের উত্থান সম্পর্কে জানা যায়, প্রথম জীবনে পাপুল কুয়েতের একটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা-কর্মীদের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করেন। পরে নিজেই প্রতিষ্ঠানটির একজন অংশীদার হয়ে ওঠেন। এরপর আর তার পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নিজের মতো করে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে শুরু করেন।

বিশেষ প্রতিবেদকঃ 

ad

spellbitsoft

YOUTUBE-DIGITAL-KHOBOR

আর্কাইভ

%d bloggers like this: