ওমানে স্পন্সর ছাড়াই ব্যবসা করার নতুন আইন পাশ

ক্যাটাগরি: অর্থ-বানিজ্য, আন্তর্জাতিক, প্রবাস, শিরোনাম, সর্বশেষ-সংবাদ

Posted: February 13, 2020 at 11:41 am

ওমানে স্পন্সর ছাড়াই ব্যবসা করার নতুন আইন পাশ-Digital Khobor

 

ওমানের নতুন সুলতান হাইথাম বিন তারেক ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমেই একটা যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, যা ইতিমধ্যেই ওমান সহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নতুন সুলতান ওমানে বিদেশীদের জন্য ব্যবসা বাণিজ্যের দুয়ার খুলে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ওমান সরকারের “নতুন বিদেশী মূলধন বিনিয়োগ আইন (এফসিআইএল)” এর (আরডি 50/98) অধীনে ওমানে ১০০% বিদেশী মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে অনুমোদনের জন্য কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিয়েছে। এখন থেকে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা কোনো ধরণের ওমানি পার্টনার / স্পন্সর ছাড়াই শতভাগ নিজস্ব মালিকানায় ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে।

ওমানের পূর্বের আইন অনুযায়ী কোনো বিদেশী ওমানে ব্যবসা করতে চাইলে একজন ওমানিকে কমপক্ষে ৩০% অংশীদার এবং বিদেশীর সর্বোচ্চ ৭০% অংশিদারিত্বের সুযোগ ছিলো। তার মানে হচ্ছে কেউ চাইলেই শতভাগ মালিকানায় ওমানে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব ছিলনা। কিন্তু ওমানের নতুন সুলতান হাইথাম বিন তারেক ক্ষমতা গর্হণে মাত্র এক মাস যেতে না যেতেই তিনি ওমানে ব্যবসার দুয়ার খুলে দেন বিদেশীদের জন্য। তার এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সকল দেশের প্রবাসীরা।

ওমানের পূর্বের আইন অনুযায়ী কেউ ওমানে বিনিয়োগকারী হতে চাইলে, তাকে কমপক্ষে ১,৫০,০০০ ওমানি রিয়াল বিনিয়োগ করতে হতো, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার সমমান। কিন্তু নতুন আইনে মাত্র ৩০০০ ওমানি রিয়াল যা বাংলাদেশী টাকায় ৬লক্ষ ৬০ হাজার টাকার সমপরিমাণ বিনিয়োগ করেই একজন প্রবাসী শতভাগ মালিকানায় ওমানে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে। তবে এতে অল্প সংখ্যক ব্যবসা-বাণিজ্য শুধুমাত্র ওমানিদের জন্য নির্দিষ্ট করে রাখা হয়েছে, যেগুলোতে বিদেশিদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিষিদ্ধ ৩৭টি বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিম্নরূপ: অনুবাদ/টাইপ ষ্টোর এবং ফটোকপি পরিষেবা, সেলাই, লন্ড্রি, যানবাহন, মোটরগাড়ি মেরামত, নৌ পরিবহন, বিক্রয়, জনশক্তি এবং নিয়োগ পরিষেবাদি, হেয়ারড্রেসিং/সেলুন, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী এবং এতিমদের জন্য ট্যাক্সি অপারেশন, মাছধরা এবং পুনর্বাসন ঘর সহ আরও বেশকিছু ব্যবসা।

এক সাক্ষাত্কারে ওমানের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী ডঃ আলী বিন মাসউদ আল সুনাইদী বলেন, নতুন আইন ওমানের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনবে। আইনের মূল অংশগুলির মধ্যে অন্যতম একটি হল সুলতানাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিনিয়োগকারীদের তার কোম্পানির অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় ১,৫০,০০০ ওমানি রিয়াল থাকা বাধ্যতামূলক করবে না। এবং বিদেশিদের ওমানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শতভাগ মালিকানা পেতে সহায়তা করবে। আইন অনুযায়ী, কোনও বিনিয়োগকারী স্থানীয় স্পন্সরের প্রয়োজন ছাড়াই ওমানে তার ব্যবসা করতে পারবে।

  • পূর্বের আইনে ওমানে ব্যবসা করতে চাইলে কমপক্ষে ১,৫০,০০০ ওমানি রিয়াল বিনিয়োগ করতে হতো, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার সমমান।
  •  নতুন আইনে মাত্র ৩০০০ ওমানি রিয়াল যা বাংলাদেশী টাকায় ৬লক্ষ ৬০ হাজার টাকার সমপরিমাণ বিনিয়োগ করলেই হবে।
  • পূর্বের আইনে একজন প্রবাসী সর্বোচ্চ ৭০% অংশিদারিত্বের সুযোগ ছিলো।
  • নতুন আইনে শতভাগ মালিকানার সুযোগ প্রদান করা হয়েছে।
  • পূর্বের আইনে ওমানি স্পন্সর বাধ্যতামূলক ছিলো।
  • নতুন আইনে ওমানি স্পন্সর বাদ দেওয়া হয়েছে। 

দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমওসিআই) বিনিয়োগ বোর্ডের প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম আল মামারির মতে, আইনটি দেশে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে দক্ষতার স্তর বাড়িয়ে তুলবে। তিনি বলেন, “এটি অপারেটিং সংস্থাগুলির দক্ষতার স্তর বৃদ্ধি করবে এবং অর্থনৈতিক দক্ষতা এবং আধুনিক বিনিয়োগ প্রযুক্তি স্থানান্তর করতে সহায়তা করে। এটি অর্থনৈতিক ভিত্তির বৈচিত্র্য সাধনের দিকে নিয়ে যাবে এবং ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।” তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে নতুন এফসিআইএল সালতানাতের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় উদারীকরণের চিহ্নিত করে। এটি ব্যবসা এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি শক্তিশালী এবং আকর্ষণীয় বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেয়। নতুন এফসিআইএল বাণিজ্যিক সংস্থা আইন, বেসরকারিকরণ আইন, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ আইন এবং দেউলিয়া আইনের সাথে একত্রে বিনিয়োগকে উত্সাহিত করবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ ওমানে আরবাব যেন সোনার হরিণ!

 

ওমান সরকারের ভীষণ-২০৪০ পূরণের লক্ষে ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটির সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় প্রথম ধাপে বিদেশীদের জন্য উন্মোচন করে দিলো ওমানের দুয়ার। ওমান বিনিয়োগের স্মার্ট পোর্টালের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ডঃ ইউসুফ বিন হামাদ আল বালুশি বলেন, “কোনও সন্দেহ নেই যে সাধারণভাবে এবং বিদেশী বিনিয়োগ বিশেষত বিনিয়োগ যে কোনও উন্নয়ন প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন অনেক দেশ রয়েছে যারা এই জাতীয় বিনিয়োগকে আকর্ষণ করার প্রতিযোগিতা করে, কারণ এর অনেক সুবিধা এবং সমাধান রয়েছে।” আল বালুশি আরও যোগ করেন, “সুলতানিদের ব্যাপারে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ ও উত্সাহ দেওয়ার গতি ত্বরান্বিত করতে বর্তমান সময়ে খুবই প্রয়োজনীয়। নতুন এই আইনে ওমানে বিপুল বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং একটি নতুন মডেলের পরিবর্তন আসবে ওমানে।”

বালুশি বলেন, “ওমানে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে, এই সম্পদ কাজে লাগাতে হবে, নবজাগরণের শুরু থেকে এখন অবধি উন্নয়নের প্রয়োজন এবং অগ্রাধিকারগুলি আমূল পরিবর্তন হয়েছে। ওমান স্বল্প সময়ের মধ্যে পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে প্রস্তুত। এটিতে টেকসই পর্যায়ে পরিবর্তনের এবং স্থানান্তরিত হওয়ার জন্য সমস্ত উপাদান, সংস্থান এবং প্রস্তুতি রয়েছে, যার মধ্যে সবাই কাজ করবে, উৎপাদন করবে এবং সমস্ত প্রকারের সুবিধা পাবে। আল বালুশি ব্যাখ্যা করে বলেন, আমরা যদি আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করি তবে আমরা দেখতে পাব যে ওমানিরা অর্থনীতির একটি চৌরাস্তাতে রয়েছে। এটি সঠিকভাবে অধ্যয়ন করতে হবে এবং বিনিয়োগকারীদের উত্সাহ বাড়াতে হবে।”

এদিকে, ব্যান্ড বা ব্ল্যাকলিস্টে যে ৩৭ খাত আছে সেগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা, তেল-গ্যাস এবং রেস্তোঁরা কেন্দ্রিক ব্যবসাগুলোকে রাখা হয়নি। যদিও পূর্বে এসব খাতগুলোতে ওমানি মালিকানার শর্ত ছিল এখন তা শিথিল হয়েছে। ওমানের বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন এই ধারার প্রবণতার উপর গুরুত্ব দিয়ে কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব অলিভার স্টিভেনস উল্লেখ করেছেন কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব অলিভার । তিনি দৈনিক পত্রিকা ওমান অবজারভারক বলেছেন, নতুন এই আইন বিদেশী বিনিয়োগকারিদের কাছে দেশের অর্থনীতিকে আরও উন্মুক্ত করেছে।

দেশটির বিনিয়োগ পরামর্শদাতারা এবং আর্থিক পরামর্শদাতারা বলেন, ওমান সঠিক সময়ে নতুন আইনটি কার্যকর করেছে, কারণ ওমান বিভিন্ন খাতে নতুন বিনিয়োগ পরিচালনা করতে প্রস্তুত। এছাড়াও, যারা বিদেশী মূলধন বিনিয়োগ আইনের বিধি লঙ্ঘন করবে তাদের আইনের আওতায় জরিমানা ও করা হবে। ওমান চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক আহমেদ আল হুতি বলেন, “ওমানে আরও বেশি বিনিয়োগের আকর্ষণ করার জন্য বৈদেশিক মূলধন বিনিয়োগ আইন একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি খুবই প্রয়োজন ছিল। এর মধ্যে সরকারী ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব, বেসরকারিকরণ, বিনিয়োগ এবং দেউলিয়া সম্পর্কিত আইন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও, বাণিজ্যিক সালিসি কেন্দ্র আছে। এই সমস্ত কারণে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।” আল হুতি আরও বলেন, “ওমান বর্তমান সময়ে খুবই সম্ভাবনাময় একটি দেশ, যেখানে বিনিয়োগের বিপুল সুযোগ রয়েছে।”

 

বাইজিদ আল-হাসান,

 

Mujib Borsho

ad

spellbitsoft

YOUTUBE-DIGITAL-KHOBOR

আর্কাইভ

February 2020
SSMTWTF
« Jan  
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
29 
%d bloggers like this: