অস্তিত্ব হারাতে বসেছে নাটোরের ধরাইল জমিদার বাড়ী

ক্যাটাগরি: জাতীয়, শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি, শিরোনাম, সমগ্র বাংলাদেশ, সর্বশেষ-সংবাদ

Posted: February 12, 2020 at 1:43 pm

অস্তিত্ব হারাতে বসেছে নাটোরের ধরাইল জমিদার বাড়ী-Digital Khobor

নাটোরঃ অযত্ন আর অবহেলায় অস্তিত্ব হারাতে বসেছে নাটোরের ধরাইল জমিদার বাড়ি। ইতিমধ্যে জমিদার বাড়ির অনেকাংশ দখল হয়ে গেছে। সংরক্ষণের অভাবে জীর্ণদশায় পতিত হয়ে গেছে জমিদার বাড়িটি। বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ এই ধরাইল জমিদার বাড়ি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে

প্রবীণদের দেয়া তথ্যে জানাজায়, জমিদার শশাঙ্ক চৌধুরী নাটোর সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া ইউনিয়নের ধরাইল গ্রামে ১৩১১ বঙ্গাব্দে এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। জনশ্রতি রয়েছে, এই গ্রামের জমিদারদের পূর্ব পুরুষরা খুব অর্থশালী ছিলেন। তারা টাকা দাড়িতে ওজন করে গুনতেন। দাঁড়ি পাল্লাতে করে ধরার (৫ সেরে এক ধরা) মাপে টাকা গুনতেন বলে এই গ্রামের নামকরণ হয়েছে ধরাইল। এই জমিদারের চারটি তরফ ছিল। শশী মোহন চৌধুরী, বিজয় গোবিন্দ চৌধুরী, পাঁচ আনি (বিনোধ বিহারী চৌধুরী) ও সর্বশেষ জমিদার ছিলেন গোবিন্দ নাথ চৌধুরী।

বগুড়া, পাবনা, পাঁচবিবি ও নাটোর সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধরাইল জমিদারদের তালুক ছিল। নাটোরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, ধরাইল আইএম উচ্চ বিদ্যালয়টি পাঁচ আনি জমিদার অর্থাৎ বিনোধ বিহারী চৌধুরীর সম্পদের ওপর নির্মিত। ধরাইল জমিদাররা গ্রামে কম থাকতেন । তারা কলকাতায় বেশি থাকতেন। ৪৭ সালে দেশ ভাগের পর জমিদাররা খুব একটা আর ধরাইল গ্রামে আসেননি। মুক্তিযুদ্ধের আগাম ধারনা থেকে তারা অনেক সম্পদ কলকাতায় নিয়ে যান তৎকালীন সময়ে।

বাংলাদেশের প্রাচীন জমিদারী ঐতিহ্যের অংশ এই ধরাইল জমিদার বাড়ি নির্মাণের সময় মাটির নিচে সুরঙ্গ ঘর করা হয়। সেখানে অর্থ সম্পদ রাখা হত। কারো কারো মতে সুরঙ্গটি ছিল একটি পথ। ওই সুরঙ্গ পথ নারদ নদের সাথে সংযোগ ছিল। বজরা বা নৌকায় চড়ে নারদ নদ দিয়ে কলকাতায় যাতায়াত করতেন জমিদাররা। ভবনগুলো ছিল কারুকাজ খচিত। ডাকাত দলের আক্রমণ ঠেকাতে মুল ফটকে লাগানো হয় লোহার দরজা। পানির জন্য উভয় পারে শানবাঁধানো বেশ কিছু পুকুর খনন করা হয়। রাধা-বল্লভ জিউ মন্দিরসহ একাধিক মন্দির নির্মাণ করা হয়। কালের বির্বতন ও সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ না থাকায় দখল হয়ে গেছে জমিদারদের সিংহভাগ সম্পদ। অযত্ন আর অবহেলায় জীর্ণদশায় পতিত হয়েছে রাধা-বল্লভ জিউ মন্দির।

চার শতাংশ জায়গার ওপরে ৪৪ ফুট দৈর্ঘ্যের, ২৩ ফুট প্রস্থ এবং ২৫ ফুট উচ্চতা নিয়ে ১১৪ বছরের এই মন্দিরটি আপন সৌন্দর্য নিয়ে কালের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে। এলাকাবাসী জানায়, জমিদারের তিন পুরুষ এই মন্দিরে পূজা-অর্চনা করেছেন। কৌমুদিনী নামে একজন পুরোহিত এই মন্দিরে নিযুক্ত ছিলেন। তবে স্বাধীনতার পর এই মন্দিরে আর প্রদীপ জ্বলেনি, পাওয়া যায়নি বিগ্রহ। চুন-সুড়কি দিয়ে নির্মিত এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি সংরক্ষণ করারও সরকারিভাবে কোন ধরনের উদ্যোগও নেয়া হয়নি। বর্তমানে মন্দিরটি অবহেলিত হয়ে পড়ে থাকায় হারিয়েছে এর জৌলুস। বর্তমানে দখলদারদের থাবার মুখে রয়েছে মন্দিরটি।

ধরাইল জমিদারবাড়ি দখলমুক্ত করা সহ সংস্কারের দাবী জানান নাটোরের দিঘাপতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌহান। বিষয়টি নাটোরের জেলা প্রশাসক মোঃ শারিয়াজের নজরে আনলে তিনি ধরাইল জমিদার বাড়িসহ সম্পদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে সরকারের আয়ত্বে নেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রতি দেন।

মেহেদী হাসান বাবুঃ

Mujib Borsho

ad

spellbitsoft

YOUTUBE-DIGITAL-KHOBOR

আর্কাইভ

February 2020
SSMTWTF
« Jan  
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
29 
%d bloggers like this: