দেশে মৎস্য চাষ করে সফল হলেন লন্ডন প্রবাসী মুকিত

ক্যাটাগরি: অর্থ-বানিজ্য, কৃষি ও প্রকৃতি, জাতীয়, প্রবাস, শিরোনাম, সমগ্র বাংলাদেশ, সর্বশেষ-সংবাদ

Posted: January 25, 2020 at 1:19 pm

দেশে মৎস্য চাষ করে সফল হলেন লন্ডন প্রবাসী মুকিত-Digital Khobor

দেশে মৎস্য চাষ করে সফল হলেন লন্ডন প্রবাসী মুকিত


মৌলভীবাজারঃ নদী মাতৃক সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা চির শান্তির দেশ, আমাদেরই বাংলাদেশ। এ মাটির জলে ফুলে ও ফসলে বেড়ে উঠে বাংলার প্রতিটি তাজা প্রাণ। তাইতো কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতির এই দেশে কৃষি ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়েছে নব-বিপ্লব। দেশের সবচেয়ে উৎপাদনশীল ও গতিশীল খাতগুলোর মধ্যে মৎস্য খাত অন্যতম। কৃষি শিল্প আর মৎস্য চাহিদা পূরণে জেলায় জেলায় গড়ে উঠছে নতুন নতুন কৃষি ও মৎস্য খামার। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বৃহৎ হাওর গুলোকে কেন্দ্র করেও গড়ে উঠেছে ছোট বড় অসংখ্য কৃষি ভিত্তিক মৎস্য খামার। এসব কৃষি উদ্যোগ যেমন জেলার মৎস্য ও কৃষি চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে, তেমনি হতাশাগ্রস্ত বেকার যুবকদের জন্য তৈরি হচ্ছে আত্ম কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ।

জেলার সম্ভাবনাময় এই কৃষি ভিত্তিক মৎস্য খাত নিয়ে দেশী ও প্রবাসী অনেক উদ্যোক্তা বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছেন। তেমনি একজন সফল খামারী ও উদ্যোক্তা সৈয়দ মুকিত আহমদ। ১৯৬২ সালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার জগৎসী গ্রামে জন্ম নেয়া এই উদ্যোক্তা কিশোর বয়সে ১৯৭৭ সালে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় পরিবারের সাথে পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। সেখানে রেস্টুরেন্টে ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত থেকে দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশে এসে ১৯৯৯ সালের দিকে নিজ এলাকায় বিনিয়োগ করে অবসর সময় দেশেই কাটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দেশে আসার পর নিজ চোখে বেকারত্ব দেখে তাঁকে মারাত্মকভাবে ব্যথিত করে। অবশেষে প্রবাস জীবনের অর্জিত অভিজ্ঞতা দেশে কাজে লাগাতে উদ্যোগ নেন স্বপ্নবাজ মানুষ মুকিত আহমদ।

দেশে মৎস্য চাষ করে সফল হলেন লন্ডন প্রবাসী মুকিত-Digital Khobor
মুকিতের মৎস্য প্রকল্পে মাছের খাবার দিচ্ছে কর্মীরা

গত শুক্রবার (২৪-জানুয়ারি) মুকিতের নিজ বাসায় তার সফলতা নিয়ে একটি সাক্ষাৎকার নেন আমাদের প্রতিনিধি মোঃ আব্দুল কাইয়ুম। এ সময় মুকিত তার সফলতার নানা দিক তুলে ধরেন। মুকিত বলেন, ১৯৯৯ সালে প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর চারদিকে বেকারত্ব দেখে তিনি নিজেই হতাশ হয়ে যান। এমতাবস্থায় তিনি সিদ্ধান্ত নেন একটি কৃষি ভিত্তিক মৎস্য খামার গড়ে তোলার। যেমন সিদ্ধান্ত তেমন বাস্তবায়নের কাজ। ছোট বেলা থেকে বিলেতে বেড়ে উঠা সৈয়দ মুতিত যুক্তরাজ্যের বিলাসী জীবন ছেড়ে অবসর সময়ে দেশের টানে সাধারণ মানুষের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষে প্রায় ৩০০ একর ভূমির উপর গড়ে তুলেন বৃহৎ পড়িসরে একটি মৎস্য খামার। তাঁর খামারের যাত্রা শুরুকালে সেখানের রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামো নানা উন্নয়ন কাজে কয়েক হাজার মানুষ যুক্ত থাকলেও অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হওয়ায় বর্তমানে সেখানে প্রায় শতাধিক মানুষ কাজ করছেন। তাঁর এই মৎস্য খামারের পাশাপাশি আছে দুগ্ধ ও খাসির খামার, রয়েছে দেশী-বিদেশী হাঁস মোরগ,কবুতরসহ নানা প্রজাতির পাখি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শাহ্‌ কাদেরিয়া খামারের প্রবেশ পথের বাম পাশে রয়েছে বিশাল শাহী ঈদগাহ, মসজিদ আর মধ্যখানে রয়েছে খামারে প্রবেশের আলিশান প্রধান ফটক। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াস নগর ইউনিয়নের বানিকা গ্রামের বিশাল হাওর এলাকায় প্রথমে মাত্র তিন একর ভূমির উপর শাহ্‌ কাদেরিয়া মৎস্য খামার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করেন তিনি। খামারের পাশেই নিজের পরিবার নিয়ে বসবাস করার জন্য রিসোর্টের আদলে গড়ে তুলেছেন নান্দনিক কারুকার্য খচিত ডুপ্লেক্স বাড়ি। বাড়ির চার পাশের আঙিনা ঘিরে তৈরি হয়েছে মিনি পার্ক। যেখানে নিজের সন্তানদের বিনোদন আর দর্শনার্থীদের বসার জন্য রয়েছে এক নির্জন পরিবেশে সময় কাটানোর উপযুক্ত স্থান।

দেশে মৎস্য চাষ করে সফল হলেন লন্ডন প্রবাসী মুকিত-Digital Khobor
মুকিতের মৎস্য প্রকল্পের মাছ ধরছেন কর্মীরা

চারিদিকে পাখির কলকাকলি মুখর সবুজ এই উদ্যান ঘিরে সাধারণ মানুষ আর দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে সারাক্ষণ। এক সময়ে যেখানে ধানি জমি আর চারিদিকে কাঁদামাটি ছাড়া কিছুই ছিলনা, সেখানে এসব ধানি জমি আর হাওর এলাকা একাকার হয়ে দ্রুত তৈরি হয় বিশাল এক সাম্রাজ্যের। খামার ঘিরে তৈরি হওয়া এই সাম্রাজ্য দেখতে আর প্রকৃতির নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন পর্যটকরা। বিশেষ করে শীতকালে খামারের সবুজ গাছগাছালি ছোট বড় পুকুরের জলরাশিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা সবুজ এই উদ্যানে অতিথি পাখির আনাগোনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। এই খামারে উৎপাদিত মাছ জেলার মৎস্য চাহিদা পূরণ করে দেশের নানা প্রান্তে রপ্তানি হচ্ছে।

বর্তমানে খামারটিতে ছোট-বড় মিলিয়ে ৬০টি পুকুর রয়েছে। এসব পুকুরগুলোতে রয়েছে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার, তেলাপিয়া, কার্ফু, কৈই, মাগুর, শিং, বোয়াল, গজার ও ঘণিয়াসহ নানা প্রজাতির সাদা জাতের দেশীয় মাছ। এসব মাছ সংগ্রহ করে জেলার বিভিন্ন হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রতিদিন সকাল হলেই পাইকারদের আনাগোনা বেড়ে যায়। খামারের সত্ত্বাধিকারী সৈয়দ মুকিত আহমেদ বলেন, আমি দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে অনেক কষ্ট করে অর্থ উপার্জন করে অবসর সময়টুকু দেশে কাটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। এর পর দেশে এসে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষে মৎস্য খামারে বিনিয়োগ করি, যার সুফল এখন আমি ভোগ করছি। প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে মুকিত বলেন, “আপনারা প্রবাসে থাকা অবস্থায় কষ্টার্জিত টাকা অপব্যয় না করে প্রতি মাসে অল্প অল্প করে সঞ্চয় করুন, এরপর দেশে এসে প্রবাসের অর্জিত সম্পদ এবং দক্ষতা দেশে মাটিতে কাজে লাগান। দেখবেন একটা সময় আপনিও সফল হবেন।”

 

মোঃ আব্দুল কাইয়ুম

Mujib Borsho

ad

spellbitsoft

YOUTUBE-DIGITAL-KHOBOR

আর্কাইভ

February 2020
SSMTWTF
« Jan  
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
29 
%d bloggers like this: