মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, আতঙ্কে বাংলাদেশী প্রবাসীরা

ক্যাটাগরি: আন্তর্জাতিক, জাতীয়, প্রবাস, শিরোনাম, সর্বশেষ-সংবাদ

Posted: January 14, 2020 at 12:41 pm

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, আতঙ্কে বাংলাদেশী প্রবাসীরা-Digital Khobor

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, আতঙ্কে বাংলাদেশীরা


প্রবাসী ইরাকে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর ইরান ও আমেরিকা এই মুহূর্তে একটা পূর্ণ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। তেহরানের পক্ষ থেকে প্রতিশোধের হুঙ্কার দেয়া হচ্ছে। বিশ্লেষকরাও বলছেন ইরান অবশ্য যে কোনো ধরনের পাল্টা জবাব দেবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও হুমকি দিয়ে রেখেছে।

নতুন কোনো হামলা ইরানের পক্ষ থেকে হলে জবাবে ইরানের ভেতরে হামলা করবে ওয়াশিংটন। ৫২টি বিশেষ ইরানি স্থাপনা ইতোমধ্যে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতিতে দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা কমাতে তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। ইউরোপিয়ান দেশগুলো ট্রাম্পের বিভিন্ন আচরণে কিছুটা অখুশি হলেও সোলাইমানির হত্যাকে সবাই সমর্থন জানিয়েছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এমন টানটান উত্তেজনায় বেশ আতঙ্কে বাংলাদেশী প্রবাসীরা। যেই হরমুজ প্রণালি ঘিরে গোটা বিশ্বের তেলের বাঁজার পরিচালিত হয়, সেই হরমুজ প্রণালি ওমান ও দুবাইর মধ্যবর্তী আরব সাগরে অবস্থিত।

এমতাবস্থায় ওমানের আট লাখ প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতিনিধিত্বকারী বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাব ওমানের প্রেসিডেন্ট সিরাজুল হক বলেন, ‘ইরান আমেরিকা উত্তেজনায় আমরা ওমান প্রবাসীরা আতংকে আছি। কারণ ইরান আমেরিকা যুদ্ধ লাগলে আমাদের প্রবাসীদের ব্যবসা বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পরবে, সেইসাথে এর প্রভাব পরবে রেমিট্যান্সের উপর। ওমানে বাংলাদেশী যে বড় একটা শ্রম বাজার রয়েছে, এই শ্রম বাজার ও কঠিন হুমকির মুখে পরবে। আর এতে আমাদের দেশের ও ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যুদ্ধ লাগার তেমন সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছেনা। যেহেতু ওমানের সাথে ইরানের ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং আমেরিকার সাথেও ওমান সরকারের ভালো সম্পর্ক আছে, তাই হয়তো এটা মধ্যস্থতা করতে ওমান বেশ ভূমিকা রাখতে পারে।’

অপরদিকে ওমানে দীর্ঘ ১৬বছর যাবত ব্যবসা করছেন সাইফুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশী বলেন, ওমানে আপাতত তেমন কোনো সমস্যা দেখা যাচ্ছেনা, শুধুমাত্র স্বর্ণের দাম একটু বেড়েছে। তবে যদি যুদ্ধ লাগে, সেক্ষেত্রে আমাদের প্রবাসীদের জন্য অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য সহ সকল প্রবাসীরা কঠিন হুমকির মুখে পরে যাবো।’

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, প্রায় ২১ লাখ বাংলাদেশী সৌদি আরবে কর্মরত আছেন। ব্যাপক মাত্রায় সৌদীকরণের ফলে এমনিতেই দেশটি থেকে নিয়মিত ফেরত আসছেন বাংলাদেশী কর্মীরা। সম্প্রতি ইরান-মার্কিন টানাপড়েনেও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ সৌদি আরবে বাংলাদেশী কর্মীদের মধ্যে কর্মসংস্থান হারানোর আতঙ্ক আরো বেড়ে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটিতে প্রায় পাঁচ হাজার সৈন্য রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

আবার অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটিতে সাড়ে সাত লাখের মতো প্রবাসী রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা উপস্থিতি থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে সমর্থন দিয়ে আসছে দেশটি। এ কারণে সম্প্রতি ইরান সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতেও হামলার হুমকি দিয়েছে। চলমান এই অস্থিরতায় বেশ আতঙ্কে আমিরাত প্রবাসীরা। ওমান প্রবাসীদের এমন উদ্বেগের ব্যাপারে ওমানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ গোলাম সারোয়ার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক ও ওমানের বাংলাদেশ স্কুল মাস্কাটের সাবেক প্রিন্সিপ্যাল ড. মেজর নাসির উদ্দিন আহমেদ (অবঃ) বলেন, ‘গত শুক্রবারে ওমানের সুলতান কাবুসের মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অনেক বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। কারণ সুলতান কাবুস শুধুমাত্র ওমান নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্য সহ মুসলিম বিশ্বের স্থায়িত্ব, স্থিতিশীলতা বা ম্যাচ্যুইরিটি অর্থাৎ পরিপক্বতার এক মূর্ত প্রতীক ছিলেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ যখন উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিচ্ছিল এবং এর খেসারত হিসেবে বিভিন্ন দেশের সৈন্য বাহিনীকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিতে বাধ্য হয়েছিলো। তখন সুলতান কাবুস অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে পা ফেলেছে। যেকারণে ওমানে বিদেশী তেমন কোনো সৈন্য দেখা যায়না। তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় অত্যন্ত গোপনে ইরান, আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের সাথে মধ্যস্থতা করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন। কাতার ও সৌদি আরবের মাঝে বিরোধ, ইরানের পারমাণবিক শক্তি নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের উত্তেজনা কমাতে ও সুলতান বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তার মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্য এখন কোন দিকে মোড় নিবে তা বুঝা যাচ্ছেনা। তবে ইরান ও আমেরিকার মাঝে যদি সংঘাত শুরু হয়ে যায়। তাহলে ওমান সহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যের বাংলাদেশীরা চরম হুমকির মাঝে পর্বে এবং এর প্রভাব পর্বে রেমিটেন্স এর উপর।

 

বাইজিদ আল-হাসান, সাংবাদিক 

 

 

spellbitsoft

YOUTUBE-DIGITAL-KHOBOR

আর্কাইভ

January 2020
SSMTWTF
« Dec  
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
%d bloggers like this: