জনকের প্রত্যাবর্তন : অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা

ক্যাটাগরি: অন্যান্য, শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি, শিরোনাম, সমগ্র বাংলাদেশ, সর্বশেষ-সংবাদ

Posted: January 12, 2020 at 2:46 pm

Jahangir Alam

জনকের প্রত্যাবর্তন : অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা

দিনটি ছিলো সোমবার। হাজার বছরের পরাধীন বাঙালির বিজয়ের পূর্ণতা প্রাপ্তির ঐতিহাসিক দিন। মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় উদ্বেলিত জনতার প্রতিক্ষার শেষ দিন। যার নেতৃত্বে সাড়ে সাত কোটি বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো সেই মহান নেতাকে ফিরে পাবার দিন। বাংলার আকাশ সেদিন মুখরিত, আনন্দে উদ্বেলিত বাঙালির মহান অতিথিকে বরণ করার জন্য। যার আত্মপ্রত্যয়ী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে নয়মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে বাঙালির আজন্ম লালিত স্বপ্ন -স্বাধীনতা।

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বিশ্ব জনমতের চাপে কারাগার থেকে মুক্তির খবর দেওয়ার পরও কোথায় কীভাবে তাকে ফেরত দেয়া হবে তা নিয়েও ছিলো ধুম্রজাল। পাকিস্তান সামরিক বিমানে খুব গোপনে বঙ্গবন্ধুকে লন্ডনে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিলো। ৯ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের লন্ডন সময় ভোর ৮:৩০ মিনিটে স্বদেশে ফেরার জন্য বঙ্গবন্ধুকে বৃটিশ রাজকীয় বিমান কমেট জেটে উঠিয়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশে ফেরার পথে বিমানটি দুই ঘণ্টার যাত্রা বিরতি দেয় দিল্লিতে। ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি ও প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানান। স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে নিজ দেশের চাওয়া ব্যক্ত করেন, তারাও আশ্বাস দিলেন বঙ্গবন্ধু যেদিন চাবেন সেদিনই ফেরত নেয়া হবে ভারতীয় সৈন্যবাহিনী। তারপর যে দেশের জল-বায়ু-মাটি যার রক্তে, মানুষের ভালোবাসা যার হৃদয়ে সেই সদ্য ভূমিষ্ঠ স্বাধীন দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা। লন্ডন-দিল্লি উভয় জায়গাতেই তিনি পেয়েছিলেন বীরোচিত সংবর্ধনা।

বিজয়ী নেতার আগমনের মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় কোটি জনতা। অতঃপর অধীর অপেক্ষার পালা শেষে বাংলার আকাশ প্রকম্পিত করে দুপুর ১ টা ৪১ মিনিটে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিমানটি বাঙালির অস্তিত্বকে দেশেরবুকে ফিরিয়ে দিলো। সেই সাথে লাখো কোটি মানুষের হৃদয়ের হাহাকার তথা জাতির পিতাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি পূর্ণ হল, সেই সাথে পূর্ণতা পেল বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা।

 

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশ টিচার্স নেটওয়ার্ক( বিটিএন) এর উদ্যোগে ক্যারিয়ার এক্সিলারেশন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

 

বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা রেসকোর্স ময়দানে ঐদিন ১৭ মিনিট জাতির উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। যা ছিলো বাঙালি জাতির জন্য দিকনির্দেশনা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা। বাংলাদেশের আদর্শগত ভিত্তি ও রাষ্ট্রকাঠামো কী হবে, পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যারা সহযোগিতা করেছে, যুদ্ধাপরাধী-গণহত্যাকারীদের কী করা হবে, বর্হিবিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ, মুক্তিবাহিনী, ছাত্র-সমাজ, কৃষক-শ্রমিকদের কাজ কী হবে এসব বিষয়সহ বিভিন্ন দিক নির্দেশনা ছিলো তার ভাষণে। সর্বোপরি তিনি ডাক দিলেন সবাইকে নিয়ে ক্ষুধা, দারিদ্র, নিরক্ষরতামুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার সংগ্রামের।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করত। সেই যুদ্ধবিধ্বস্তদেশে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হলো এক কোটি লোক অনাহারে মারা যাবে। সেটা তো হয়ইনি বরং ভারতে আশ্রয় নেয়া প্রায় এক কোটি শরণার্থী ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসিত করা হলো। সবাইকে নিয়ে আত্মনিয়োগ করলেন দেশ পুনর্গঠনের কাজে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শুধু কোনো নাম বা উপাধি নয়, একটি জাতির ইতিহাস। নির্দিষ্ট কোনো সময়ের প্রতিনিধি নয়, বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাইতো বাঙালি হৃদয়ে থাকবেন চিরভাস্বর হয়ে।
আজ জাতির পিতার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগননার দিনে বিপ্লবস্পন্দিত বুকে বেজে ওঠে বঙ্গবন্ধুর অমিয়বাণী ‘অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা’। আর সেই ধারাবাহিকতায় তারই সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ম শেখ হাসিনার হাত ধরে সেই যাত্রা পথ নানা বাঁধা-ষড়যন্ত্র পেরিয়ে এখন অদম্য অভিযাত্রা। জয় বাংলা। সফল হোক মুজিববর্ষ উদযাপন।

 

লেখক :
জাহাঙ্গীর আলম
শিক্ষক, তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা
আহ্বায়ক, বাংলাদেশ টিচার্স নেটওয়ার্ক (বিটিএন)।

spellbitsoft

YOUTUBE-DIGITAL-KHOBOR

আর্কাইভ

January 2020
SSMTWTF
« Dec  
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
%d bloggers like this: