হিউম্যান মিল্ক-ব্যাংক পদ্ধতি শরিয়ত কি বলে

ক্যাটাগরি: জাতীয়, ধর্ম ও জীবন, শিরোনাম, সর্বশেষ-সংবাদ, স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

Posted: December 22, 2019 at 12:37 pm

হিউম্যান মিল্ক-ব্যাংক পদ্ধতি শরিয়ত কি বলে-Digital Khobor

হিউম্যান মিল্ক-ব্যাংক পদ্ধতি শরিয়ত কি বলে


সম্প্রতি রাজধানীর শিশু ও মাতৃ-স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে মাতৃদুগ্ধ ‘সংরক্ষণের’ জন্য হিউম্যান মিল্ক-ব্যাংক চালু করা হয়েছে। যাদের সন্তান মারা গেছে বা সন্তানকে পান করানোর পরও যেসব মায়েদের বুকের দুধ অতিরিক্ত থাকে তারা চাইলে সেই মিল্ক ব্যাংকে তা দান করতে পারবে। আর যাদের প্রয়োজন তারা সেখান থেকে তা নিতে পারবে।

আপাত দৃষ্টিতে হিউম্যান মিল্ক-ব্যাংকের এ উদ্যোগটিকে অত্যন্ত ‘কল্যাণকর’ মনে হলেও এর মাধ্যমে একটি বড় ধরনের স্থায়ী সমস্যার সৃষ্টি হবে। ইসলামে ‘হুরমতে রাযাআত’ দুধ পানের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার যে বিধান মিল্ক-ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। ইসলামি শরিয়তের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা। মিল্ক-ব্যাংক এই পদ্ধতিকে ধ্বংস করবে। বহু অজানা দুধ ভাই বোন হবে। যাদের মধ্যে বিয়ে হারাম। ফলে অজ্ঞাতেই বহু হারাম বিবাহ হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

সমাজ সেবার নামে ‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম সম্পূর্ণ ঈমান বিধ্বংসী ও শরীআহ বিরোধী কাজ। অবিলম্বে এই কার্যক্রম বন্ধে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন উচ্চতর ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান শায়খ আবুল হাসান আলী নদভী ইসলামিক রিসার্চ ইন্সটিটিউটের পরিচালক ইসলামিক স্কলার ও গবেষক মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকী। তথ্যানুসারে মুসলিম বিশ্বের কোথাও এ ধরনের কোনও মিল্ক-ব্যাংক নেই। ওআইসি এর ইসলামি ধর্মীয় বিধান বিষয়ক বোর্ড ‘মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী’ (International Islamic jurist of OIC) মিল্ক-ব্যাংককে হারাম ঘোষণা করেছে।
বাংলাদেশে দেশে এই ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম।

মাওলানা ফারুকী হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক হারাম হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ইসলামি শরীআহ’র পাঁচটি লক্ষ্য উদ্দেশ্যের একটি হচ্ছে, নছল তথা বংশধারা রক্ষা করা। এজন্যই ইসলামে বিবাহ বহির্ভূত সব ধরনের যৌন সম্পর্ক হারাম। হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক বংশধারা ও আত্মীয়তার সম্পর্ককে ধ্বংস করবে। ইসলামে দুধের সম্পর্কও রক্তের সম্পর্কের মতো। দুধ পান করার সাথে সাথে ওই মায়ের রক্তের লোকজন বিয়ের ক্ষেত্রে তার জন্য হারাম হয়ে যায়। আল্লাহ পাক কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ (বিয়ের জন্য) তোমাদের দুধ মাতা, দুধ বোন’। (সূরা নিসা, ২৩)।

ইসলামি শরীয়তের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা। মিল্ক-ব্যাংক এই পদ্ধতিকে ধ্বংস করবে। বহু অজানা দুধ ভাই বোন হবে। যাদের মধ্যে বিয়ে হারাম। অথচ অজ্ঞাতেই বহু হারাম বিবাহ হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। ফলত তাঁরা ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে মিল্ক-ব্যাংককে হারাম বলেছেন।

১। মিল্ক-ব্যাংকে দুধ দান করা।
২। মিল্ক-ব্যাংক থেকে দুধ পান করানো।
৩। মিল্ক-ব্যাংক স্থাপন।

এই সবকটিই হারাম। আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ (বিয়ের জন্য) তোমাদের দুধ মাতা, দুধ বোন।’- সূরা নিসা ২৩

তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বের কোথাও এ ধরনের কোনো মিল্ক ব্যাংক নেই। গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বাংলাদেশে বেসরকারি অনুদানে একটি ইন্সটিটিউট এই মিল্ক ব্যাংক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।
সরকারকে অবশ্যই এর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এ ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, এদেশের ঈমানদার তৌহিদী জনতা ওআইসির সদস্যভুক্ত দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশে প্রকাশ্যে মিল্ক ব্যাংকের ইসলামী সমাজ ও শরীআহ বিরোধী কর্মকান্ড কোনোভাবেই মেনে নিবে না।

তিনি আরো বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে যেসব স্বজনেরা (বিয়ের জন্য) হারাম তদ্রূপ দুধ-পানের সম্পর্কের ভিত্তিতেও তারা হারাম।’ (বুখারী, মুসলিম)

এব্যাপারে মারকাযুদ্দাওয়াহ আল ইসলামিয়ার শিক্ষক মাওলানা যাকারিয়া আবদুল্লাহ মিল্ক-ব্যাংক বিষয়ে বলেন, পাশ্চাত্যের অনুসরণে মিল্ক-ব্যাংক-এর কার্যক্রম শুরু করা একটি মুসলিম সামাজিকতা বিরোধী উদ্যোগ। বাঙ্গালী মুসলিমের আবহমান সংস্কৃতি পরিপন্থী একটি কাজ। ধর্মীয় বিধি নিষেধ তো আছেই। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিন্দনীয়।

মিল্ক-ব্যাংক বিষয়ে রাজধানীর বাইতুল উলূম ঢালকানগর মুহাদ্দিস মুফতি শাব্বীর আহমাদ বলেন, মায়ের বুকের দুধ সংরক্ষণ ও বিতরণের এ উদ্যোগটিকে আপাত দৃষ্টিতে কেউ কল্যাণের মনে করতে পারে। কিন্তু ইসলামে পারিবারিক সম্পর্কের যে স্থিতিশীলতা এর মাধ্যমে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সমূহ আশঙ্কা বিদ্যমান। এখান থেকে কে কার দুধ পান করবে তা নির্দিষ্ট না করতে পারায় বিবাহ-পর্দা শরিয়তের বহু ক্ষেত্রেই সমস্যা সৃষ্টি হবে। সেজন্য মিল্ক-ব্যাংক কখনো মুসলমানের জন্য কল্যাণের হতে পারে না। প্রয়োজন হলে কোনো মুসলিম শিশুকে নির্দিষ্ট অন্য কোনো মুসলিম নারীর দুধ পান করানো অবশ্যই জায়েজ। এটা কুরআন ও হাদিসের আলোকে প্রমাণিতও। তবে দুধ সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য মিল্ক-ব্যাংক এর অনুমতি শরিয়ত দেয় না।

 

ডিজিটাল খবর

 

ad

spellbitsoft

YOUTUBE-DIGITAL-KHOBOR

আর্কাইভ

April 2020
S S M T W T F
« Mar    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  
%d bloggers like this: