পচে যাচ্ছে পিয়াজ, ফেলা হচ্ছে নদীতে-ভাগাড়ে, তবুও কমছেনা দাম!

ক্যাটাগরি: অর্থ-বানিজ্য, কর্পোরেট, জাতীয়, শিরোনাম, সর্বশেষ-সংবাদ

Posted: November 16, 2019 at 3:45 pm

পচে যাচ্ছে পেঁয়াজ, ফেলা হচ্ছে নদীতে-ভাগাড়ে, তবুও কমছেনা দাম! -Digital Khobor

৩০ টাকার পেয়াজ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ২৫০ টাকা করে বিক্রি করছে কিছু অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী
প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পিয়াজের দাম। পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকও করে প্রশাসন।
প্রতিবার অভিযানের পর পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা কমলেও এক-দুইদিন পরই তা আবারও বেড়ে যায়।
এ অবস্থায় হাল ছেড়ে দিয়েছে প্রশাসনও।

এখন প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২০০-২৫০ টাকা। অস্বাভাবিকভাবে দাম বৃদ্ধির জন্য পেঁয়াজের সরবরাহ ঘাটতির কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা।
কিন্তু আড়তে বিপুল পিয়াজ সংগ্রহে রেখে বেশি দামে বিক্রির আশা অনেকের ভেস্তে গেছে।

কয়েকটি আড়তে পচে যাওয়া মিয়ানমারের পিয়াজ ফেলে দেওয়া হচ্ছে নদীতে-ভাগাড়ে।
শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর চট্টগ্রাম নগরের ফিরিঙ্গি বাজার ব্রিজ ঘাট এলাকায় ১০-১৫ বস্তা পচা পিয়াজ কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

বাজারে সরবরাহে মারাত্মক সংকটের মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুন গঞ্জের আড়ত থেকে ডাস্টবিন,
খালের পাড়ে-নদীতে ফেলা হচ্ছে বস্তায়-বস্তায় পচা পেঁয়াজ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা জানিয়েছেন,
গত তিনদিন ধরে খাতুন গঞ্জের বিভিন্ন মার্কেটের গুদাম থেকে ফেলা ১৫ থেকে ১৬ মেট্রিকটন পচা পেঁয়াজ তারা অপসারণ করেছেন।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধিরা এবং খুচরা বিক্রেতারা বলছেন,
বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর জন্য আড়তদারেরা এসব পেঁয়াজ মজুদ করে রেখেছিলেন।
মজুদ করা পেঁয়াজ পচে যাওয়ায় সেগুলো এখন আবর্জনার স্তূপে ফেলা হচ্ছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত খাতুনগঞ্জ সংলগ্ন চাক্তাই খালপাড় ও কর্ণফুলী নদীতে এবং পাড়ে ফেলা হয় কয়েক’শ পেঁয়াজের বস্তা।
রাতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা সেই পেঁয়াজ নিয়ে বায়েজিদ বোস্তামি থানার আরেফিন নগরে আবর্জনা গারে ফেলছেন।
এছাড়া নদী ও এর পাড় থেকে অনেকে পচা পেঁয়াজ কুড়িয়ে রোদে শুকাতে দেখা গেছে।

তবে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাদের গুদামে কোনো পেঁয়াজ মজুদ নেই।
মিয়ানমার থেকে যেসব পেঁয়াজের চালান আসছে, সেখানেও পচা পেঁয়াজ আছে। সেগুলো ফেলে দেওয়া হচ্ছে।

আজ (১৬ নভেম্বর) নগরীর খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন মার্কেটে পেঁয়াজের গুদাম ও পাইকারি বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে বস্তায়-বস্তায় পচা পেঁয়াজ দেখা গেছে।
আবার পচা পেঁয়াজের বস্তা বিক্রি হতেও দেখা গেছে। সকালে হামিদউল্লাহ মার্কেটে নুরুল ইসলাম ও দ্বীন ইসলাম নামে দুই ভাই
১০০ টাকা দরে প্রতি বস্তা পেঁয়াজ কিনছিলেন। উচ্চমূল্যের মধ্যে পচা-নষ্ট পেঁয়াজ থেকে কিছুটা ভালোগুলো বেছে নিয়ে বিক্রির জন্য তারা কিনছেন বলে জানান।

নগরীর ৩৫ নম্বর বক্সিরহাট ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক আহমদ ছফা বলেন, ‘খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মার্কেটে, সামনের রাস্তায়,
চাঁন মিয়া বাজার ও মধ্যম চাক্তাই এলাকায় পচা পেঁয়াজ পেয়েছি। চারটি ট্রাকে করে আমরা সেগুলো আরেফিন নগরে ময়লার ভাগাড়ে ফেলেছি।’

ক্যাবের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ তদারকির অভাবে
সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা মজুতদারির সুযোগ নিয়েছে। মজুদের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি করে বাড়তি মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।
মজুদ করা যেসব পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারেনি, পচে গেছে, সেগুলো এখন ভাগাড়ে ফেলা হচ্ছে।’

ব্যবসায়ীরা জানান, মায়ানমার থেকে শুক্রবার ১৬৮ টন পেঁয়াজ খাতুন-গঞ্জে এসেছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত এসেছে ৭০টন।
শনিবার খাতুন-গঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মায়ানমারের ভালো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ২২০ টাকায়। কিছুটা নিম্নমানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।

 

ডেক্স রিপোর্ট 

spellbitsoft

YOUTUBE-DIGITAL-KHOBOR

আর্কাইভ

January 2020
SSMTWTF
« Dec  
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
%d bloggers like this: