তুরিন আফরোজ কি লোভের আগুনে বলি হলো?

ক্যাটাগরি: শিরোনাম, সম্পাদকীয়, সর্বশেষ-সংবাদ

Posted: November 12, 2019 at 6:02 pm

তুরিন আফরোজ কি লোভের আগুনে বলি হলো?- Digital Khobor

 

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় তুরিন আফরোজ গণমাধ্যমে কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিলো।

এই বিচারের নানা পর্যায়ে যখনই আইনজীবীদের বক্তব্য নেয়ার প্রয়োজন হতো তখনই সবাই তুরিনের কাছে ছুটে যেতো।

সে খুবই গুছিয়ে কথা বলতে পারতো। কয়েক মাস আগে আমাকে কল দিয়েছিল উত্তরায় তার বাড়ির বিষয়ে।

তার বাবার বাড়ির মালিকানা নিয়ে বিরোধ। সেই বিরোধে তার মা ও ভাই ওই বাড়ির মালিকানা নিয়ে ভাগাভাগির দ্বন্দ্ব।

তিনি অনুরোধ করেছিলেন এসব নিয়ে যেনো রিপোর্ট না হয়। আমি কথা রেখেছিলাম।

কিন্তু পরে দেখলাম তার ভাই মা সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছে যে তুরিন ক্ষমতা খাটিয়ে ওই বাড়ি দখলে রেখেছেন।

তাদেরকে বাড়িতে উঠতে দিচ্ছে না। যাক সে কথা। এখানে কার অভিযোগ সত্য কারটা মিথ্যা সেটা তদন্তের বিষয়। আমি সেখানে যেতে চাই না।

 

কিছুক্ষণ আগে দেখলাম অনলাইনে দেখলাম শেষ পর্যন্ত তুরিনকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরের পদ থেকে অপসারিত করা হয়েছে।

এটা নিয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। কারণ কি? কারণ হচ্ছে, শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণ ভঙ্গ এবং গুরুতর অসদাচরণ।

এই অভিযোগ গত বছরের মে মাস থেকেই তাকে ট্রাইব্যুনালের সব মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিলো।

তারপর তদন্ত করে চূড়ান্তভাবে তাকে বাদ দেয়া হলো।তুরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ কি? অভিযোগ হচ্ছে,

তিনি এনএসআই ও পাসপোর্টের সাবেক ডিজি যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামী ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করেন।

ঢাকার একটি হোটেলে তার সাথে সাক্ষাৎও করেন। এই বিষয়টি ধরা পড়ে ওয়াহিদুল হককে গ্রেফতারের পর তার কাছ থেকে

আটক মোবাইলে দুটি কল রেকর্ড থেকে। সেখানে বিষয়টি পরিষ্কার হয় যে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীকে সব তথ্য দিয়েছেন।

 

তারপরও আশা ছিল তদন্তে তুরিন নির্দোষ প্রমাণিত হবেন। কিন্তু উল্টোটা হলো বাস্তবে। তুরিন মেধাবী। সিঙ্গেল মাদার। অনেক বছর তাকে চিনি।

পছন্দও করতাম তার চমৎকার ব্যবহার ও সুন্দর কথা বলার ধরনের জন্য। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ও তাকে পছন্দ করেন

একজন মেধাবী তরুণ আইনজীবী হবার কারনে। প্রসিকিউটর হবার আগে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ওপর কি যেন একটা প্রজেক্ট নিয়েও কাজ করতেন

পরে যুদ্ধাপরাধ আদালতে আইনজীবী হিসাবে কাজ করে খুব দ্রুত সামনে চলে আসেন। সবার নজর কাড়েন। কিন্তু হায়! এখন সবই বৃথা গেলো মনে হয়।
মুক্তিযুদ্ধের কি চেতনা তিনি ধারণ করলেন যে লোভে আগুনে বলি হয়ে গেলেন?

 

লেখকঃ মোস্তফা ফিরোজ দীপু, বার্তা প্রধান-বাংলাভিশন

* প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। ডিজিটাল খবর-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে।

তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য ডিজিটাল খবর কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

 

spellbitsoft

YOUTUBE-DIGITAL-KHOBOR

আর্কাইভ

December 2019
SSMTWTF
« Nov  
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031 
%d bloggers like this: