বাগেরহাটে শ্যামলীর দুধ খেতে হাজারো মানুষের ঢল

ক্যাটাগরি: অন্যান্য, জাতীয়, শিরোনাম, সমগ্র বাংলাদেশ, সর্বশেষ-সংবাদ, স্বাস্থ্য ও রুপচর্চা

Posted: October 5, 2019 at 8:51 pm

শ্যামলীর দুধ খেতে হাজারো মানুষের ঢল

বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার বাশতলী গ্রামের শ্যামলীর দুধ নিতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছেন তার বাড়িতে।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। এমন ঘটনা ঘটেছে বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার বাশতলী গ্রামে। কেউ খালি হাতে, কেউ বোতল নিয়ে এভাবেই ভিড় করছেন এলাকার সাধারণ জনগণ। জানা-গেছে গ্রামের মহানন্দ মণ্ডলের পোষা ১৮ মাস বয়সী বকনা বাছুর বাচ্চা প্রসব ছাড়া যখন দৈনিক চার কেজি দুধ দিচ্ছেন। তখন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই দুধ পান করে বিভিন্ন রোগমুক্তির জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার লোক ভিড় করছে মহানন্দের বাড়িতে।

শনিবার সকালে দেখা যায়, মহানন্দের বাড়ির সামনে রাস্তার দুপাশে সারিবদ্ধ রয়েছে অটো-বাইক, রিকশা, মটর সাইকেল, মাহেন্দ্রসহ নানা যানবাহন। বাড়িতে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে দীর্ঘ লাইন। আঙ্গিনায় হাজারও নারী পুরুষ, শিশুসহ নানা বয়সী মানুষ। রয়েছে ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবক, হাত মাইকে বলা হচ্ছে শৃঙ্খলার সাথে অপেক্ষা করুণ। কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্যামলী দুধ দিবে।

শ্যামলীর মালিক মহানন্দের সাথে কথা হলে তিনি বলেন ‘বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের কোন্ডলা গ্রামের সরোয়ার হোসেনের কাছ থেকে ৮ মাস বয়সী একটি বকনা বাছুর ক্রয় করি। বর্তমানে যার বয়স ১৮ মাস। গত চারমাস আগে গোয়ালঘরে গিয়ে ওই বকনাটির বান থেকে দুধ পড়ছে। দুই তিনদিন একই ঘটনা দেখার পরে, আমরা দুধ সংগ্রহ শুরু করি। বিষয়টি অবহিত করি প্রাণী সম্পদ বিভাগকে। তারা এই দুধ খেলে কোন সমস্যা হবে না। এরপর থেকেই আশপাশের মানুষ দুধ খাওয়া শুরু করে। অনেকেই বলতে থাকে এই দুধ খেয়ে তাদের বিভিন্ন রোগ সেরেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন এলাকা থেকে দুধ নিতে অনেক মানুষ আসে। কিন্তু পর্যাপ্ত চাহিদা মিটাতে পারছি না।’

মহানন্দ আরও বলেন, দুধের বিনিময়ে আমরা কারও কাছ থেকে কোন পয়সা নেই না। কিন্তু কেউ যদি কোন টাকা দেয়। আমরা সেটা গ্রহণ করি শ্যামলীর খাবারের জন্য। আর যদি একটু বেশি টাকা দিত তাহলে শ্যামলীর জন্য একটি ভাল ঘর বানাতে পারতাম।

দুধ নিতে আসা নারায়ণ দাস বলেন, শুনেছি এ বকনার দুধ খেলে অনেক রোগ ভাল হয়। তাই আসছি দুধ নিতে।

স্থানীয় মনিরুল বলেন, কয়েকদিন ধরে দেখছি অনেক লোক সকালে হাজির হয় দুধ নিতে। শুনেছি অনেক মানুষ এই দুধ খেয়ে ভাল হয়েছেন।

বাশতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ আলী বলেন, দুধ নিতে প্রতিদিন মহানন্দের বাড়িতে হাজার হাজার লোক আসে। শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য স্থানীয় লোকজন ও চৌকিদাররা সহযোগিতা করছে। প্রশাসন এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা এ বিষয়টি অবলোকন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানান তিনি।

বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. লুৎফর রহমান বলেন, অনেক সময় হরমন জনিত সমস্যার কারণে বাচ্চা প্রসবের আগেই বকনার বানে দুধ আসতে পারে। এটা একটি সমস্যা। তবে এ দুধ খেলে কোন সমস্যা হবে না। গাভীর দুধের মত এই দুধও খাওয়া যায়। তবে কেউ যদি রোগমুক্তি বা বিশেষ কোন কারণে এই দুধ পান করে থাকেন তবে এটা তার একান্ত নিজস্ব বিশ্বাসের ব্যাপার। এখানে আমাদের কিছু বলার নেই।

অপরদিকে বাগেরহাট শহরের রওশনরা বেগম বলেন, কোমর, ঘাড় ও পিঠে প্রচুর ব্যথা ছিল। দুইদিন আগে দুধ নিয়ে খেয়ে একটু ভাল অনুভব করছি। তাই আবার আসছি।

মল্লিকের-বেড় এলাকার লিলি বেগম, আমি পিজিতে ডাক্তার দেখিয়েছিলাম তারপরও সুস্থ হইনি, কিন্তু এই দুধ খাওয়ার পরে সুস্থ হয়ে গেছি।
বাগেরহাটের আলোক-দিয়া গ্রামের জাঁকির হোসেনের ৯ বছরের মেয়ে রহিমা হাটতে পারত না, এই দুধ খেয়ে সে এখন হাটতে পারে বলে জানালেন তার ফুফু।

 

ডেক্স রিপোর্ট

Archives

October 2019
S S M T W T F
« Sep    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  
%d bloggers like this: