মোবাইলে উঠে আসছে নির্মাতার স্বপ্ন

ক্যাটাগরি: জাতীয়, তথ্য-প্রযুক্তি, বিনোদন, শিরোনাম, সমগ্র বাংলাদেশ, সর্বশেষ-সংবাদ

Posted: September 29, 2019 at 8:55 am

মোবাইলে উঠে আসছে নির্মাতার স্বপ্ন

ঢাকা আন্তর্জাতিক মোবাইল চলচ্চিত্র উৎসবের ৬ষ্ঠ আসরের পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা আন্তর্জাতিক মোবাইল চলচ্চিত্র উৎসবের ষষ্ঠ আসরের কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নির্মাতাদের বানানো চলচ্চিত্র জমা পড়ছে এবং তা শতকের ঘর ছাড়িয়েছে।

হাতে আছে মজবুত গল্প, কিন্তু সেই গল্প সেলুলয়েডের পর্দায় রূপ দেওয়ার জন্য নেই আধুনিক ক্যামেরা। নেই অর্থ লগ্নি করার মতো কোনো প্রযোজক। কিন্তু প্রযুক্তির কারণে গল্পকে চলচ্চিত্রে রূপ দিচ্ছেন অনেকে। কেউ কেউ নিত্য ব্যবহৃত নিজেদের স্মার্টফোন দিয়ে চলচ্চিত্র বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন সবাইকে। মোবাইলে বানানো নিজেদের চলচ্চিত্রকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার বিশাল এক প্ল্যাটফর্ম ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক মোবাইল চলচ্চিত্র উৎসব’।

মোবাইলে তোলা ছবি নিয়ে ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর শিক্ষানবিশ কার্যক্রম ‘সিনেমাস্কোপ’। শুরুর দিকে শুধু ‘সিনেমাস্কোপে’র সদস্যদের বানানো সিনেমা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও পরবর্তীতে তা ইউল্যাবের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। স্মার্টফোনে ধারণ করা এই চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা ২০১৭ সালে নেয় আন্তর্জাতিক রূপ। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের নির্মাতারা তাদের মোবাইলে ধারণ করা চলচ্চিত্র পাঠাতে পারেন এখন ঢাকা আন্তর্জাতিক মোবাইল চলচ্চিত্র উৎসবে।

এই উৎসবের ষষ্ঠ আসরের কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নির্মাতাদের বানানো চলচ্চিত্র জমা পড়তে শুরু করেছে। ১ এপ্রিল থেকে চলচ্চিত্র জমা পড়ছে, এরই মধ্যে শতকের ঘর ছাড়িয়েছে।

ঢাকা আন্তর্জাতিক মোবাইল চলচ্চিত্র উৎসবের এবারের আসরের পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন রায়হান  জানান, ‘স্ক্রিনিং, কম্পিটিশন এবং ওয়ান মিনিট’, এই তিন ক্যাটাগরিতে চলচ্চিত্র জমা দেওয়া যাবে। স্ক্রিনিং বিভাগের জন্য যে কেউ বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে চলচ্চিত্র জমা দিতে পারবেন। কম্পিটিশন বিভাগের জন্য শুধু বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা চলচ্চিত্র জমা দিতে পারবেন; এই বিভাগ থেকে সেরা চলচ্চিত্রটি পাবে ‘সিনেমাস্কোপ বেস্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড’। প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ওয়ান মিনিট বিভাগের জন্য চলচ্চিত্র জমা দিতে পারবেন এবং এই বিভাগের সেরা চলচ্চিত্রটি পাবে ‘ইউল্যাব ইয়াং ফিলমেকার অ্যাওয়ার্ড’।

স্ক্রিনিং ও কম্পিটিশন বিভাগের জন্য চলচ্চিত্রের দৈর্ঘ্য হতে হবে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট এবং ওয়ান মিনিট বিভাগের জন্য টাইটেল ও ক্রেডিট লাইন মিলিয়ে ১ মিনিট দৈর্ঘ্যের। প্রত্যেক প্রতিযোগী সর্বোচ্চ ২টি চলচ্চিত্র জমা দিতে পারবেন। প্রত্যেকটি চলচ্চিত্রের সঙ্গে সাব টাইটেল যুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া সিনেমাস্কোপ বেস্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড এবং ইউল্যাব ইয়াং ফিল মেকার অ্যাওয়ার্ডের জন্য বিজয়ীরা পাবেন ক্যাশ প্রাইজ, ক্রেস্ট এবং সার্টিফিকেট।

ঢাকা আন্তর্জাতিক মোবাইল চলচ্চিত্র উৎসবের পূর্ববর্তী আসরের বিচারকদের একজন চলচ্চিত্র সমালোচক ও লেখক বিধান রিবেরু। তিনি প্রিয়.কমকে বলেন, ‘চলচ্চিত্র বানানোর জন্য এখন আর রেড ক্যামেরার দরকার নেই, প্রদর্শনীর জন্য প্রেক্ষাগৃহেও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। চলচ্চিত্র বানানোর জন্য একটি মোবাইল আর ইউটিউবে একটি চ্যানেল থাকাই যথেষ্ট।’

নতুন প্রজন্ম, নতুন প্রযুক্তি ও নতুন যোগাযোগ—এই স্লোগানকে সঙ্গী করে মোবাইলের মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ‘সিনেমাস্কোপে’র এই আয়োজনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসাইন। তিনি  বলেন, ‘বাংলাদেশে মোবাইলের ক্যামেরায় সিনেমা বানানোর চর্চাটা এখনও গড়ে ওঠেনি। এই প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে হয়তো তরুণরা ছোট পরিসরে হলেও সিনেমা তৈরির সাহস পাবে।’

উৎসব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে এই ঠিকানায় (www.dimff.net)।

Archives

October 2019
S S M T W T F
« Sep    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  
%d bloggers like this: