বিদেশে লোক পাঠানোর নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আদম দালালরা

ক্যাটাগরি: অর্থ-বানিজ্য, আইন-আদালত, জাতীয়, প্রবাস, শিরোনাম, সমগ্র বাংলাদেশ, সর্বশেষ-সংবাদ

Posted: September 11, 2019 at 1:13 pm

DK-BD-lavour

স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে এবং একটু নিজে ভাল থাকার এবং পরিবারের সদস্যদের ভাল রাখার প্রত্যাশায় শিক্ষিত হয়েও শ্রমিক ভিসায় পাড়ি জমাচ্ছে বিদেশের মাটিতে । বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর নামে নানা কৌশলে এজেন্সির যোগসাজসে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল চক্র। এমনকি বৈধপথে যেসব দেশে বাংলাদেশি শ্রমিক নেয়া বন্ধ রয়েছে সেসব দেশেও লোক পাঠানোর নাম করে মাসের পর মাস আটকে রাখা হচ্ছে পাসপোর্ট। অভিবাসী শ্রমিক নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রামরু জানিয়েছে, দালালদের তালিকা করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ না নিলে দৌরাত্ম্য বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

রাজধানীর সিটি হার্ট সেন্টারে অনেক ট্রাভেল, রিক্রুটিং ও হজ এজেন্সির অফিস রয়েছে। সুপার ইর্স্টান নামে একটি এজেন্সির মাধ্যমে মালয়শিয়া পাঠানোর নাম করে এক দালাল মেহেরপুরের বর্শিবাড়িয়া ও আশপাশের গ্রাম থেকে গতবছরের অক্টোবরে ৬৪ জনের পাসপোর্ট সংগ্রহ করে। সাথে অগ্রিম হিসেবে জনপ্রতি ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করে। গড়ে ৫০ হাজার করে হলে অংক দাড়ায় ৩২ লাখ টাকা। গত নভেম্বরে এসব পাসপোর্টধারীকে ঢাকায় এনে মেডিকেল পরীক্ষাও করানো হয়। অথচ গতবছরের সেপ্টেম্বরেই বৈধ পথে মালয়শিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানো বন্ধ রয়েছে। নভেম্বরে মেডিকেল রিপোর্টের পর শুরু হয় টালবাহানা। বিদেশ যেতে ইচ্ছুক শ্রমিকরা ঘুরতে থাকেন টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত নিতে।

এ দলের একজন ভুক্তভোগী মেহেরপুরের রাজু। এজেন্সি অফিসে একাধিকবার ধরনা দিয়েও ফেরত পাননি পাসপোর্ট। উল্টো বলা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা পায় এজেন্সি। সরেজমিনে যাওয়ার পর এজেন্সির ম্যানেজার শুরুতেই উড়িয়ে দিলেন পাসপোর্ট আটকে রেখে টাকা আদায়ের বিষয়টি। এমনকি যে দালাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছে তাকে চেনার কথাও অস্বীকার করেন তিনি।
দ্য সুপার ইস্টার্ন লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক কাজী ইব্রাহীম হোসেন জানান, নাহ পাসপোর্ট কেন আটকে রাখবো। পাসপোর্ট নেয়া হয় তবে কাজ না হলে যেদিন তারা ফেরত চাইবেন সেদিনই দিয়ে দেয়া হয়। এ সময় ভুক্তভোগী জানান, মেহেরপুরের আতিকুলের কাছে পাসপোর্ট দিয়েছি এর জবাবে কাজী ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ওই আতিকুলকে আমি চিনিনা।

প্রতারিত ভুক্তভোগীকে মুখোমুখি হাজির করা হলে কিছুটা বাক-বিতণ্ডার পর ফেরত দেয়া হয় পাসপোর্ট। এর আগে যে ১৫ হাজার টাকা পাওনার দাবি তুলেছিলেন সেটাও নেবেন না বলে জানান তিনি। ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা সরকারি খরচ হলেও মালায়শিয়া যেতে ইচ্ছুক এ শ্রমিকদের সঙ্গে দালালের চুক্তি হয়েছিলো ৪ লাখ ১০ হাজার টাকার। বিনিময়ে ভালো বেতনে ফার্নিচার কোম্পানিতে চাকরির।

দু মাস আগে আতিকুল নামে ওই দালালের মৃত্যু হওয়ায় ভুক্তভোগীরা যোগাযোগ করেন তার ছেলে টিটোনের সঙ্গে। একাধিকবার চেষ্টার পর অভিযোগের বিষয়ে টেলিফোনে তিনি এলোমেলো বক্তব্য দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।
আবার এ ভবনে কয়েকজনকে পাওয়া যায় সুনামগঞ্জ থেকে আসা নারীশ্রমিকদের। উদ্দেশ্য গৃহকর্মী হিসেবে যাবেন সৌদিআরবে। মাত্রই পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। এখনো জানেন না কত টাকা তাদের ব্যয় করতে হবে। বিদেশ যেতে চাওয়া ওই নারীশ্রমিক জানান, মেডিকেল করা হয়েছে, যদি রিপোর্ট ভালো হয় তাহলে আঙ্গুলের ছাপ দেয়ার পর যাত্রা।
বায়রার হিসেবে ১৯ শতাংশ শ্রমিক বিদেশ যাওয়ার আগেই প্রতারিত হন। আর ৩১ শতাংশ নানাভাবে প্রতারিত হন বিদেশ যাওয়ার পরে। চলতি বছর জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গেছেন ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৮১২ জন শ্রমিক।

এই দালালদের বিরোদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়া হলে সর্বশান্ত হবে আরও অনেক নিরিহ মানুষ ।

Mujib Borsho

ad

spellbitsoft

YOUTUBE-DIGITAL-KHOBOR

আর্কাইভ

February 2020
SSMTWTF
« Jan  
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
29 
%d bloggers like this: