বিপুল সম্ভবনার পেশা হচ্ছে মার্কেটিং

ক্যাটাগরি: অন্যান্য, অর্থ-বানিজ্য, কর্পোরেট, জাতীয়, শিরোনাম, সমগ্র বাংলাদেশ, সর্বশেষ-সংবাদ

Posted: August 23, 2019 at 12:28 am

মার্কেটিং পেশা

ঢাকায় টাকা উড়ে বা কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে। এই প্রবাদগুলো অনেকেই মানতে নারাজ হলেও যারা মার্কেটিং পেশার সাথে জড়িত তাদের নিশ্চয় এই প্রবাদের উপর পুরো আস্থা আছে । কারণ, মার্কেটং এমন একটি পেশা যেখানে কঠোর পরিশ্রমের ফল অনায়েসেই মেলে এবং সেই ফল হয় খুবই সুমিষ্ট। তাই এই পেশাকে চ্যালেঞ্জিং ও সম্ভাবনাময় পেশা বলে ।

যারা মার্কেটিং পেশায় নিয়োজিত আছেন তাদেরকে পন্য বা সেবার পাশা পাশি নিজেকেও উপস্থাপন করতে হয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। গঠন মূলক কথা ও ব্যবহারের মাধ্যমে ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার চিন্তা মাথায় রাখতে হয় তাদের। পাশাপাশি ক্রেতাদের বিশ্বাস এবং আস্থাভাজন হওয়া এই পেশার অন্যতম মৌলিক চাহিদা। ক্রেতার পরিতৃপ্তির মধ্যেই এ পেশার আনন্দ। একজন মার্কেটারের বুকটা আনন্দে ভরে যায় যখন কোন ক্রেতা কোন পন্য বা সেবা ব্যবহারের পর ভাল একটা ফিডব্যাক দেয় । মার্কেটিং এর কাজটি করতে হয় একটি সঠিক মার্কেটিং প্ল্যানের মাধ্যমে, যা শুরু হয় একটি লক্ষ্যস্থির করে। প্রতিটি কম্পানীর একটি লক্ষ স্থির করা থাকে আর এই লক্ষকে বাস্তবায়ন করার জন্য অধিকাংশ অবদান রাখে মার্কেটিং পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা ।

অনেকেই মার্কেটিং আর সেলস রিপ্রেজেন্টিভকে এক মনে করলেও এই দুইটি ক্ষেত্র কিন্তু আলাদা, সেলস রিপ্রেজেন্টিভের কাজ হলো শুধু পণ্য বিক্রি করা। পণ্য বিক্রির পরিমাণের ওপরেই সেলস রিপ্রেজেন্টিভেদের মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। আর মার্কেটিং হলো কোনো কোম্পানি বা কোম্পানির পণ্যকে প্রচারের মাধ্যমে প্রসার করা। অর্থাৎ ভোক্তা বা ক্রেতার কাছে যে কোনো উপায়ে পণ্যের মান ও চাহিদার কথা পৌঁছে দেওয়া। এটা যতটা সহজ মনে করা হয় আসলে তা তত সহজ নয়। তাই এই পেশাকে একটা চ্যালেঞ্জিং পেশা বলা হয়। তবে নিষ্ঠার সাথে কাজ করলে এই পেশায় অনেক উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে।

আজকাল সব প্রতিষ্ঠানেই দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বিপণন নির্বাহী বা মার্কেটিং কর্মকর্তা দরকার। পণ্যের পাশাপাশি সেবাও আজকাল মার্কেটিংয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির সেবা থেকে শুরু করে বিমানের যাত্রী সেবা—সব জায়গায় মার্কেটিং এর ভূমিকা রয়েছে । তাছাড়া সময়ের চাহিদা মেটাতেই তৈরি হচ্ছে নতুন ভোগ্যপণ্য, আবির্ভাব হচ্ছে বিভিন্ন সেবা পণ্যের। তাই ভবিষ্যতেও মার্কেটিং খাতে প্রচুর দক্ষ জনবলের প্রয়োজন থেকেই যাবে ।

মার্কেটিংয়ে আসতে হলে কী ধরনের যোগ্যতা প্রয়োজনঃ ‘মার্কেটিং পেশায় আসতে হলে শিক্ষাগত যোগ্যতা কোম্পানিভেদে স্নাতক থেকে এমবিএ পর্যন্ত চাওয়া হয়। তবে অধিকাংশ কম্পানী মার্কেটিং পেশায় অভিঙ্গতা সম্পন্ন ব্যাক্তিদেরকেই বেশী প্রাধান্য দিয়ে থাকেন । তবে একজন মার্কেটিং কর্মকর্তাকে কিছু আবশ্যক গুণাবলীর অধিকারী হতে হয়। যেমনঃ নিয়মানুবর্তিতা, সততা, নিখুঁত বাচন ও অঙ্গভঙ্গি, পরিপাটি পোশাক-পরিচ্ছদে, সৃজনশীল, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণী ক্ষমতাসম্পন্ন, স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি, পরমতসহিষ্ণু, উন্নত যোগাযোগ দক্ষতা প্রভৃতি । এই সব গুণাবলী থাকলে এই পেশায় এগিয়ে যাওয়া সহজ। তবে যে পণ্যের মার্কেটিং করতে হবে সেই পণ্য সম্পর্কে মার্কেটিং কর্মকর্তার পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান থাকতে হবে। কারণ, পূর্ণ জ্ঞান না থাকলে গ্রাহককে পূর্ণ সেবা প্রদান করা সম্ভব নয়।

julfiker hasnat
মার্কেটিং প্রশিক্ষন নিচ্ছেন তরুনরা

এ পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে এইচএসসি পাশ করার পর থেকেই একটি ক্যারিয়ার অ্যাকশন প্ল্যান তৈরী করা ভালো। যত তাড়াতাড়ি এই পেশায় যুক্ত হওয়া যায় তত তাড়াতাড়ি অন্যদের চাইতে এগিয়ে যাওয়া যাবে । সাথে যত পারা যায় এই বিষয়ের উপর বিভিন্ন বই পড়তে হবে,ট্রেনিং এ অংশ গ্রহন করতে হবে এবং অনলাইনে প্রচুর ভিডিও আছে তা দেখতে হবে । যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সবাইকে ডিজিটাল মার্কেটিং ও শিখে ফেলতে হবে । কারণ এখন প্রতিটি মানুষ অনেক বেশী সচেতন । তাই ট্রেনিং থাকলে ক্রেতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খুব সহজেই দেয়া যাবে ।

আমার মতে একজন মার্কেটিং পেশায় নিয়োজিত ব্যাক্তিকে সমস্যা সমাধানকারী বলা যেতে পারে । কারন ক্রেতার পন্য বা সেবা যাই দরকার হোক না কেন একজন মার্কেটারই কিন্তু তার ভাল সমাধান দিতে পারে বা সহযোগিতা করতে পারে । পাশা পাশা একজন মার্কেটিং পেশায় নিয়োজিত ব্যাক্তি ৮ থেকে ১০ বছরের মাথায় নিজেকে উদ্যোগতা হিসাবেও আত্বপ্রকাশ করতে পারে । কারন পন্য বা সেবা বিক্রয় করার সব ধরনের কৌশলই তার জানা আছে । বর্তমান সময়ে বিভিন্ন কম্পানীতে একজন ভাল মার্কেটিং এ অভিঙ্গতা সম্পন্ন ব্যাক্তির প্রচুর চাহিদা রয়েছে । আয়ের ক্ষেত্রেও এই পেশায় যারা নিয়োজিত আছেন তারা আনলিমিটিড আয় করার সুযোগ রয়েছে ।

Mohammad Julfiker Ali,
চেয়ারম্যান, স্পেলবিট লিমিটেড

spellbitsoft

YOUTUBE-DIGITAL-KHOBOR

আর্কাইভ

%d bloggers like this: