আজ পহেলা বৈশাখ : স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৬

ক্যাটাগরি: জাতীয়, বিনোদন, লাইফ ষ্টাইল, শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি, শিরোনাম, সমগ্র বাংলাদেশ, সর্বশেষ-সংবাদ

Posted: April 14, 2019 at 8:06 am

মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা / অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা। সকল না পাওয়ার বেদনাকে ধুয়ে মুছে, আকাশ-বাতাস ও প্রকৃতিকে অগ্নিস্নানে সূচি করে তুলতেই আবার এসেছে পহেলা বৈশাখ।শুভ নববর্ষ।


স্বাগত ১৪২৬। নতুন বছরের প্রথম দিনটি চিরায়ত আনন্দ-উদ্দীপনা আর বর্ণাঢ্য উৎসবেরর মধ্য দিয়ে হাজির হবে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে। সেই নব প্রভাতে বাঙালি জাতির কায়মনো প্রার্থনা- যাকিছু ক্লেদ, গ্লানি, যা কিছু জীর্ণ-শীর্ণ-বিদীর্ণ, যা কিছু পুরাতন জরাগ্রস্থ-সব বৈশাখের রুদ্র দহনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাক। ‘প্রভাতসূর্য, এসেছে রুদ্রসাজে/ দুঃখের মাঝে তোমারি তূর্য বাজে/ অরুণবহ্নি জ্বালাও চিত্তমাঝে, মৃত্যুর হোক লয়। রোববার নতুন স্বপ্ন, উদ্যম আর প্রত্যাশার আবির ছড়ানো বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় উৎসব পহেলা বৈশাখ।কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের ভাষায়’ এসো, এসো হে বৈশাখ,এসো এসো। গ্রীষ্মের দাবদাহ এড়িয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাঠ-ঘাট, পথে-প্রান্তরে ঢল নামবে লাখো উচ্ছৃসিত জনতার।

আমাদের জাতিসত্তার মৌলিক ও অনন্য পরিচয় এবং বাঙালির প্রভূত রূপায়ণ ও রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অমোঘ উপাদান এই পয়লা বৈশাখ। দেশের মূল স্তম্ভ কৃষক সমাজ আজও বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করে,ফসল রোপন ও ঘরে তোলার পালাও চলে সেই পঞ্জিকা অনুসারে। ফসলি সাল গণনার জন্য একদা যে বাংলা সনের উৎপত্তি তা সুদীর্ঘকাল ধরে শহর-বন্দর, গ্রাম থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এদেশের মানুষের হৃদয়ে নিজস্ব সংস্কৃতি হিসেবে শক্ত আসন গেড়ে বসেছে। বাংলা নববর্ষে ব্যবসায়ীদের ‘হালখাতা’ রীতি এখনও এদেশের নিজস্ব সংস্কৃতির আমেজ নিয়ে টিকে রয়েছে। খেরোখাতায় পুরাতন হিসেব মিটিয়ে নতুন বছরে নতুন করে সবকিছু শুরু করার জন্য এদিন ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্টদের দাওয়াত দিয়ে এখনও মিষ্টিমুখ করান। রোববার সরকারি ছুটির দিন। উৎসবে মেতে ওঠার উপসর্গ খুঁজে ফেরা বাঙালিদের জন্য নারী-পুরুষ-শিশু, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে জাতীয়ভাবে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠার দিন। শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা এবং রং-বেরঙের নারী-পুরুষের পোষাক এবং সজ্জায় বর্ণিল হয়ে উঠবে রাজধানীসহ গোটা দেশ। প্রাণ চাঞ্চল্যে মুখরিত হয়ে রাজধানী ঢাকার দৃশ্যপটও বদলে যাবে । পরিধেয় বস্ত্রেও থাকবে বৈশাখী উৎসবের লাল-সাদার বাহারি নক্সার পোশাক। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ ও ফতুয়া পরে, পায়ে আলতা, হাতে মেহেদী আর খোঁপায় তাজা ফুলের মালা জড়িয়ে বঙ্গ ললনারা রাজপথে নেমে আসবেন। পুরুষের পরিধানে থাকবে পাঞ্জাবী ও ফতুয়াসহ চিরায়ত বাঙালি পোশাক। শিশুরাও এদিন বাবা-মা’র হাত ধরে আসবে পুরো বাঙালি সাজে সেজে। প্রায় সকলের, বিশেষ করে শিশু, তরুণ- তরুণীদের রঙ-বেরঙের মুখোশ পরে ঢাক, ঢোল, একতারা হাতে নানা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাস্তায় নেমে পড়বেন অধিকাংশ রাজধানীবাসী। রমনার বিভিন্ন বৈশাখি মেলার খাবার স্টলে ইলিশ পান্তা খাবার ধুম পড়বে।

নগরীর অভিজাত রেস্টুরেন্টগুলো থেকে শুরু করে রমনা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশেপাশে ভ্রাম্যমাণ রেস্টুরেন্টে থাকবে ইলিশ-পান্তার আয়োজন। বাসাবাড়িতে তৈরি হবে বাঙালি খাবার-ইলিশ মাছ ভাজা, শুটকি,বেগুন,ডাল, নানা পদের ভর্তা, ইলিশ ভাজা ও ষর্ষে ইলিশসহ আরো কত কি। প্রতি বছরই বর্ষবরণ উৎসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। শুক্রবার থেকেই চৈত্র সংক্রান্তি উদযাপনের মাধ্যমে চারুকলার বকুলতলায় উৎসবের শুরু হয়েছে। প্রতিবছরের মঙ্গল শোভাযাত্রায় থাকে বিশেষ কোন এক প্রতীক।

নিরাপত্তার স্বার্থে বিকাল ৫টার মধ্যে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। ১লা বৈশাখে রমনা পার্কের প্রবেশ পথের প্রতিটিতে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেকটর দিয়ে আগতদের নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হবে বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানমালা: বাংলা বর্ষবরণ মানেই রাজধানীর রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজন। আড়াই ঘণ্টার এই আয়োজন শুরু হবে রোববার সকাল সোয়া ছয়টায়।
শনিবার বছরের শেষ দিন চৈত্রসংক্রান্তির আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদ এবং সুরের ধারা ।
বাংলা ১৪২৫ সালকে বিদায় এবং নববর্ষ ১৪২৬কে বরণে ইতোমধ্যেই পার্বত্য তিনজেলা- খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবনে তিন দিনব্যাপী ‘বৈসাবি’ উৎসব শুরু হয়েছে।সব বিভাগীয় শহর এবং জেলা সদর ও উপজেলায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য মুঘল সম্রাট আকবরের যুগে প্রবর্তন করা হয় বাংলা সালের। ফসলি সন’ প্রবর্তনের মাধ্যমে ষোড়শ শতকে যে বাংলা সাল চালু হয়েছিল, তারই শুরুর দিনটি এখন বাঙালির প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে।আকবরের নবরত সভার আমির ফতেহ উল্লাহ সিরাজী খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য চান্দ্রবর্ষকে সৌরবর্ষের সঙ্গে মিলিয়ে ফসলি সাল গণনা শুরু করেছিলেন তিনি। হিজরিকে বাংলা সালের সঙ্গে সমন্বয় করে বৈশাখ থেকে বাংলা নতুন বছর গণনা শুরু হয়। বৈশাখ নামটি এসেছে নক্ষত্র ‘বিশাখা’ থেকে। পুরোনো দিনের দুঃখ কষ্ট ভুলে নতুন বছরের সূর্যোদয়কে বরণ করতে নানা রঙ্গে সাজছে সারাদেশ। নতুন বছরের প্রথম প্রহরে ‘এসো হে বৈশাখ,এসো এসো’ সুরের মূর্ছনায় ১৪২৬ বঙ্গাব্দকে বরণ করবে বাঙালি জাতি।

spellbitsoft

YOUTUBE-DIGITAL-KHOBOR

আর্কাইভ

January 2020
SSMTWTF
« Dec  
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
%d bloggers like this: